গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আড়ালে সরকারের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাতীয় প্রগতিশীল পার্টি (এনপিপি)। দলটির দাবি, এই চুক্তি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত, যা জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এক বিবৃতিতে এনপিপি জানায়, “গোপালগঞ্জে উত্তেজনা ও সমাবেশ নিয়ে যখন দেশের মানুষের দৃষ্টি সেদিকেই কেন্দ্রীভূত, তখন আড়ালে রাষ্ট্রের গলায় শৃঙ্খল পরানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সরকার এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দিয়েছে।”
চুক্তির ভেতরের বাস্তবতা তুলে ধরে এনপিপির দাবি:
চুক্তির আওতায় উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহায়তা ও সামরিক প্রশিক্ষণের মতো কিছু 'কথিত সুফল' দেখানো হলেও এর আড়ালে রয়েছে গুরুতর কুফল।
দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে—
বাংলাদেশে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বৈধতা তৈরি হবে,
প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা খাতে বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি হবে,
জাতীয় নীতিনির্ধারণে স্বাধীনতা হ্রাস পাবে,
এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও সংবিধানিক কাঠামো বাইরের শক্তির ইশারায় প্রভাবিত হবে।
এনপিপি উদাহরণ দিয়ে জানায়, “মায়ানমারের সামরিক জান্তা পর্যন্ত পশ্চিমা শক্তিকে আঞ্চলিক অফিস খুলতে দেয়নি। অথচ বাংলাদেশে তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে সেই শক্তিগুলোকেই উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”
‘চুক্তি নয়, এটা আত্মসমর্পণ’ — মন্তব্য এনপিপির
এনপিপির মতে, এটি একটি সাধারণ কূটনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় আত্মসমর্পণ। দলটি এই চুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, “এই দেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে। কোনো উন্নয়ন বা বিদেশি চাপের বিনিময়ে আবার পরাধীন হতে পারে না। সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে উন্নয়ন মেনে নেওয়া যাবে না।”
জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান
বিবৃতিতে এনপিপি দেশের জনগণকে এই চুক্তির বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “কারা এই চুক্তির পেছনে রয়েছে এবং তারা কী স্বার্থে দেশের ভবিষ্যৎ বিকিয়ে দিচ্ছে—তা খুঁজে বের করা সময়ের দাবি। এখনই না জাগলে ভবিষ্যতে জেগে উঠেও কিছু করার থাকবে না।”
এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক: আফরোজা সুলতানা মিনা
সহ-সম্পাদক: ঐশী আক্তার
বার্তা সম্পাদক: জাহিদ মোল্লা
সহ বার্তা সম্পাদক: ইরিনা ইসলাম ইভা