
নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যেন এখন দুর্নীতির এক ‘অঘোষিত অফিস’। এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, কমিশন, বিল আটকে রাখা, নিম্নমানের কাজের অভিযোগে জর্জরিত জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম। সরেজমিন অনুসন্ধান ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে—এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ আজ গোষ্ঠীগত দুর্নীতির পেটে ঢুকে পড়ছে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় উন্নয়নমুখী প্রকল্প গুলোর প্রতিটি স্তরেই চলছে এক ‘পার্সেন্টেজ নির্ভর বাণিজ্য’। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকল্প অনুমোদন থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত হারে ঘুষ না দিলে সেই ঠিকাদারের কোনো কাজ হয় না, এমনকি চলমান প্রকল্পের বিলও মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। -নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার বলেন,>"বিল পেতে গেলে ১০-১৫% পর্যন্ত দিতে হয়। না দিলে কাজ পায় না কেউ। বাধ্য হয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করি,না হয় লোকসানে পড়ে যাই।"এই দুর্নীতির করাল ছায়া সরাসরি জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কলমাকান্দা হয়ে নাজিরপুর সড়কে মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজের বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন রাস্তা ও সেতুর কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের, বর্তমানে কার্যত পরিত্যক্ত। দূর্গাপুর উপজেলার ঝানজাইল বাজার থেকে সোমেশ্বরী নদীর ওপর ব্রিজ প্রকল্পে একই চিত্র—দেয়াল ফেটে যাওয়া, রড বের হয়ে থাকা, কাজ ধীরগতির। কৃষ্ণের চর, বরগুনা গ্রামে এলজিইডির আরও একটি চলমান প্রকল্পও অবহেলা আর নিম্নমানের কারখানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন চিত্র শত শত প্রকল্পে। প্রশ্ন উঠছে—এই বেহাল দশার দায় কার?
স্থানীয় শিক্ষক সিরাজুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,>"সরকার যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, সেখানে এলজিইডির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন দুর্নীতির রমরমা চললে, জনগণের আস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? "বিশ্লেষকদের মতে, এলজিইডির প্রকল্প গুলো সরাসরি জনজীবনের সঙ্গে জড়িত। এসব উন্নয়ন যদি দুর্নীতির আবর্তে পড়ে যায়, তবে কেবল জনগণের কষ্টই বাড়বে না, উন্নয়নের অর্থবোধ হারাবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেন! তাঁর এই অস্বীকার আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে—তিনি কী লুকোতে চাইছেন? নেত্রকোনার পেশাজীবী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ এখন সরব। তারা বলছেন—>“এই দুর্নীতির চক্র যতদিন অটুট থাকবে, ততদিন উন্নয়ন কেবল ঠকানো হবে জনগণকে। দায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করে শাস্তি নিশ্চিত করুক সরকার।”এই প্রতিবেদনটি ১০ পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানমূলক সিরিজের প্রথম পর্ব। পরবর্তী পর্বে উঠে আসবে—
👉 কীভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া 'ম্যানেজ' করা হয়?
👉 কারা প্রকৌশলীর নেপথ্যে এই দুর্নীতির জাল বুনছে?
👉 প্রকল্প মূল্য কত আর কতই বা বাস্তবে খরচ হয়?
চলবে...
সম্পাদক: আফরোজা সুলতানা মিনা
সহ-সম্পাদক: ঐশী আক্তার
বার্তা সম্পাদক: জাহিদ মোল্লা
সহ বার্তা সম্পাদক: ইরিনা ইসলাম ইভা