
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় অবৈধ চোলাই মদ উৎপাদনের একটি গোপন আস্তানা ফাঁস করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৭ জুন ২০২৫) দুপুরে পরিচালিত এক সফল অভিযানে ৫ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল কবির। তার নেতৃত্বে রেইডিং টিম একটি সরকারি পিকআপে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয় সাক্ষী মোঃ নুরুল ইসলাম ও মোঃ মাসুম আহম্মেদকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান শুরু করে।
অভিযানে অভিযুক্ত মনিন্দ্র রবিদাস (৫২)-এর নিজ বাড়ির বারান্দাযুক্ত দক্ষিণ দুয়ারী সেমিপাকা কক্ষ থেকে প্লাস্টিক বোতলে সংরক্ষিত অবস্থায় ৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় মনিন্দ্র রবিদাস পলাতক ছিলেন। পরিদর্শক আমিনুল কবিরের দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মনিন্দ্র রবিদাস “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮” এর ৩৬(১) এর সারণী ২৪(ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এজাহারভিত্তিক নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
আইনানুগভাবে নমুনা সংগ্রহ করে তা সিলগালা করে হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, “মনিন্দ্র রবিদাস দীর্ঘদিন ধরে চোলাইমদ সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলেও প্রশাসনের নজর এতদিন কেন যায়নি?” তাদের মতে, তার পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া থাকতে পারে।
জনগণের জোরালো দাবি:
ত্রিশালের মানুষ চায়— এমন মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রতিটি গ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এর শেকড় উপড়ে ফেলা হোক।
মাদকবিরোধী অভিযানের আরও সাফল্য
একই দিনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ত্রিশাল থানা পুলিশের সহায়তায় পৃথক অভিযানে ১৫ লিটার চোলাই মদ ও ৬২০ লিটার ওয়াশ (চোলাইমদ তৈরির কাঁচামাল) জব্দ করা হয়। এসময় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রশাসনের জোরালো অবস্থান এবং জনগণের সহযোগিতা মিললে ত্রিশালসহ পুরো ময়মনসিংহ জেলায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক: আফরোজা সুলতানা মিনা
সহ-সম্পাদক: ঐশী আক্তার
বার্তা সম্পাদক: জাহিদ মোল্লা
সহ বার্তা সম্পাদক: ইরিনা ইসলাম ইভা