
ময়মনসিংহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা—আইনশৃঙ্খলার অবনতি,যানজটের ভয়াবহতা,পরিবেশ দূষণ,মাদক নিয়ন্ত্রণে শৈথিল্য, অনিরাপদ সড়ক,ভূমি অফিসে হয়রানি,নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা—এসবের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়ে নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান এর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে নাগরিক সমাজের একটি সক্রিয় প্রতিনিধি দল। ২৪ নভেম্বর,সোমবার দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তারা এ স্মারক লিপি হস্তান্তর করেন। নতুন প্রশাসকের প্রতি জনআকাঙ্ক্ষা—'অচলায়তনে স্বচ্ছতা,সেবায় গতিশীলতা'–প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন,ময়মনসিংহের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নানামুখী অনিয়ম,দুর্নীতি,নগর ব্যবস্থাপনা সংকট,ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা,বেপরোয়া মাদক ছড়ানো এবং জনসেবামূলক দপ্তরগুলোর ধীরগতি আজ সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। তাদের মতে,নতুন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসন যদি দৃঢ়ভাবে উদ্যোগ নেয়,তাহলে বহুদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি সম্ভব। স্মারক লিপিতে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু
সমূহঃ–আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা। বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং,মাদকচক্র ও চুরি–ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে কঠোর মনিটরিং,নিয়মিত অভিযান এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের দাবি জানানো হয়।–যানজট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ। ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান সড়ক, বিশেষ করে চরপাড়া–টাউন হল–গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় অচলাবস্থার মত যানজটে নগরবাসী অতিষ্ঠ। তারা অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ,সড়ক ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
–পরিবেশ দূষণ রোধে শক্ত পদক্ষেপ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা,খাল–নদী ভরাট,ইটভাটা দূষণ,মোটর পার্টস ওয়ার্কশপগুলোর অবাধ ধোঁয়া—সবকিছুই শহরের পরিবেশকে বিপর্যস্ত করছে। এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগের দাবি জানানো হয়। –মাদক দমন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার।
মাদক এখন শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই বিস্তার লাভ করেছে। নাগরিক সমাজ দাবি করে,
ডিএনসি,পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনকে যৌথভাবে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ অভিযানে নামতে হবে।–নিরাপদ সড়ক ও পাবলিক ট্রান্সপোর্ট শৃঙ্খলা। চলমান অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা,ব্যাটারি চালিত যান,ওভারটেকিং এবং চালকদের লাইসেন্সহীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানানো হয়।–ভূমি সেবা ও হয়রানি বন্ধ
ভূমি অফিসে দালালচক্র ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হন—এ পরিস্থিতিতে অনলাইন সেবা আরও সহজতর করা ও দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। প্রতিনিধি দলের স্মারক লিপি প্রদানের সময় যারা ছিলেন উপস্থিত ছিলেন–
মজিবুর রহমান শেখ মিন্টু–গবেষক ও পরামর্শক,
ইয়াহিয়া আরিফ–সাংবাদিক,এডভোকেট লিটন দাস–মানবাধিকার কর্মী,আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না–উন্নয়নকর্মী,বিনয়–সাংবাদিক,বিপিন রাজভর–সাংবাদিক,বিপ্লব নিভ–ইনোভেটর,
শেখ মামুনুর রশীদ মামুন–সাংবাদিক,মমতা বেগম পপি–সাংবাদিক,কানিজ–মানবাধিকার কর্মী,রাত্রি–মানবাধিকার কর্মীসহ আরও অনেকে। নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা—“নতুন নেতৃত্বে নতুন সূচনা” প্রতিনিধি দলের সদস্যদের ভাষ্য—“ময়মনসিংহের বিস্তৃত সমস্যাগুলো সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা,প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং শক্তিশালী মনিটরিংই হতে পারে মূল চাবিকাঠি। আমরা বিশ্বাস করি,নতুন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ময়মনসিংহ আবার তার প্রাপ্য উন্নয়নের পথে ফিরবে।” জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়াঃ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিশেষ বিশ্লেষণঃ এই স্মারকলিপি ময়মনসিংহের নাগরিক অধিকার,জনদুর্ভোগ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে সামনে এনেছে। প্রতিনিধি দলটি যে বিষয় গুলো তুলে ধরেছে—সেগুলো শুধু ময়মনসিংহ নয়,বাংলাদেশজুড়ে সুশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন জেলা প্রশাসকের কার্যক্রম আগামীর উন্নয়ন কাঠামো কতটা বদলে দিতে পারে,এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সম্পাদক: আফরোজা সুলতানা মিনা
সহ-সম্পাদক: ঐশী আক্তার
বার্তা সম্পাদক: জাহিদ মোল্লা
সহ বার্তা সম্পাদক: ইরিনা ইসলাম ইভা