
অপরাধীরদের আতংক—ওসি শিবিরুল-১০ দিনে আসামি গ্রেফতার দেড়শোর বেশি –
ময়মনসিংহে পুলিশের প্রতি আস্থা ফিরেছে জনগণের
ময়মনসিংহ নগরীতে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তার নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১৫০ জনেরও বেশি অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে—যাদের মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, ছিনতাইকারী, গরু চোর, ডাকাত, প্রতারক ও কিশোর গ্যাং সদস্য।
এই গ্রেফতার অভিযান নগরবাসীর মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরিয়েছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের আন্তরিকতা ও সক্ষমতা নিয়েও নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। নগরীর অলিতে-গলিতে ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযান
ওসি শিবিরুল ইসলাম ২৪ জুন ২০২৫ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই থানা পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে সক্রিয় করেন। প্রতিদিনই শহরের স্টেশন, মেডিকেল হাসপাতাল এলাকা, কাচারিঘাট, টাউন হল মোড়, ব্রিজসংলগ্ন এলাকা, গরুর হাট, কৃষ্ণচূড়া মোড়, গ্রীণরোড, জিপস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচালিত হচ্ছে রাত্রীকালীন অভিযান, চেকপোস্ট ও মোবাইল কোর্ট। বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য, বিট পুলিশিং ও এলাকাভিত্তিক তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে সাজানো হয় পরিকল্পিত অভিযান। এতে ধরা পড়ে বড়সড় অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্যরা। মামলা ভিত্তিক গ্রেফতারের বিশ্লেষণ (২৪ জুন – ৪ জুলাই ২০২৫): ১. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা
ধারাঃ ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ধারা ৩৬(১), ৪১ অপরাধঃ ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিলের ব্যবসা ও বহন। জব্দঃ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য ২. চুরি ও গরু চুরি মামলা। ধারাঃ দণ্ডবিধি ৩৭৮, ৩৮০, ৩৭৯
অপরাধঃ বাড়ি, দোকান ও গরুর হাট থেকে চুরি
উদ্ধারঃ চুরি যাওয়া গরু, মোটরসাইকেল, মোবাইল ৩. ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা
ধারাঃ দণ্ডবিধি ৩৯৫, ৩৯৭, ৪০২ অপরাধঃ সংগঠিত ডাকাতি, পূর্বপ্রস্তুতিসহ গ্রেফতার
উদ্ধারঃ দেশীয় অস্ত্র, মাস্ক, রশি, হাতুড়ি
৪. ছিনতাই ও চেইন ছিনতাই মামলা
ধারাঃ দণ্ডবিধি ৩৯২, ৩৯৪ অপরাধস্থলঃ রেলস্টেশন, হাসপাতাল, কাচারিঘাট
অপরাধঃ পথচারীদের মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই ৫. প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলা
ধারাঃ দণ্ডবিধি ৪২০, ৪০৬ অপরাধঃ বিকাশ হ্যাকিং, ভুয়া চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা
৬. কিশোর গ্যাং (ডেবিল হান ডেবিভ) সংশ্লিষ্ট মামলা। ধারাঃ দণ্ডবিধি ১৪৩, ১৪৭, ১৫০
অপরাধঃ দলবদ্ধ মারামারি, ভয়ভীতি, ছুরি নিয়ে মহড়া ৭. সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি সংক্রান্ত গ্রেফতার। আইনী ভিত্তিঃ পুরাতন জিআর কেস, আদালতের ওয়ারেন্ট। ৮. জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত মামলা। ধারাঃ জুয়া নিরোধ আইন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন
অপরাধঃ গোপনে পরিচালিত জুয়ার আসর ও অবৈধ সম্পর্ক। ৯. সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মামলা
ধারাঃ দণ্ডবিধি ৩৮৫, ৫০৬। অপরাধঃ ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, অবৈধ প্রভাব বিস্তার। মোট গ্রেফতার: ১৫০ জনেরও বেশি। পদ্ধতি: রাতভর টহল, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান ও চেকপোস্ট। তথ্যসূত্র: কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসিয়াল কেস রিপোর্ট, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল- ৯ মাসে ৪ ওসি বদলি—অস্থিরতা কাটিয়ে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা-গত ৯ মাসে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানায় একের পর এক চারজন অফিসার ইনচার্জ বদলি হয়েছেন। কেউ টিকেছেন এক মাস, কেউবা দুই মাস। এতে চরম প্রশাসনিক অস্থিরতা ও দুর্বল নেতৃত্বে নগরজুড়ে অপরাধের বিস্তার ঘটে। অবশেষে ২৪ জুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন অভিজ্ঞ ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম। প্রথম দিন থেকেই তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ় বার্তা—“অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, ছাড় নেই”। ওসির বক্তব্য: “অপরাধ দমনে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না” এই প্রতিনিধি কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন—>আমি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসেছি। অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক, তাকে আইনের আওতায় আনাই আমার দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, >শুধু পুলিশের পক্ষে শহরকে নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়, নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করেই আমরা ময়মনসিংহকে একটি মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” নাগরিক কণ্ঠে আস্থা ও প্রত্যাশা। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম বললেন—>শহরে এমন পুলিশি তৎপরতা আমরা অনেক দিন পর দেখছি। এই ওসি সত্যিকারের কর্মী ও সাহসী।” মাত্র ১০ দিনে ওসি সাহেব নগরবাসীর মনে সাহস ফিরিয়ে এনেছেন।” বিশ্লেষণ: নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা অপরিহার্য
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষক মো. ফজলুর রহমান মনে করেন—পরিকল্পিত অপরাধ দমন সম্ভব তখনই, যখন একজন দক্ষ ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়। বারবার বদলিতে সেই সুযোগ নষ্ট হয়।”
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার নতুন ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের সাহসী পদক্ষেপ নগরজুড়ে অপরাধ দমনে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। তবে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে তাকে দীর্ঘমেয়াদে কাজের সুযোগ দিতে হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও বারবার বদলির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্থায়ী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা গেলে, ময়মনসিংহ হয়ে উঠতে পারে অপরাধমুক্ত আধুনিক শহরের রোল মডেল।

ফুকরা স্ট্যান্ডে অটোভ্যান রাখার স্থান ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় মাটি ভরাট 









