
চাঁদাবাজি–সন্ত্রাসে পুলিশের ভূমিকা জানতে তথ্য অধিকার আবেদন
ময়মনসিংহে চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী তৎপরতা ও লুটপাটের একাধিক গুরুতর ঘটনার পরও কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জেলা পুলিশের গৃহীত আইনগত পদক্ষেপ,তদন্ত অগ্রগতি ও প্রশাসনিক অবস্থান জানতে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন একজন সিনিয়র সংবাদকর্মী,সম্পাদক এবং একটি সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি। তিনি পর্যায়ক্রমে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি,জেলা পুলিশ সুপার, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির কাছেও একই সারমর্মে আবেদন পাঠিয়েছেন। আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রশ্নগুলো এখন জেলা পুলিশের দায়বদ্ধতা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তিন ঘটনায় এক নাম: চাঁদাবাজি থেকে লুটপাটঃ ঘটনা–১: মাদ্রাসায় চাঁদা ও প্রাণনাশের হুমকি–আবেদন অনুযায়ী,২৩ জুন ২০২৫ রাত আনুমানিক ১০টায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ায় অবস্থিত মদিনাতুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পরিচালক মাওলানা মো. আলামিনের কাছে জাহাঙ্গীর ওরফে সুন্দরী জাহাঙ্গীর এবং তার ১৫–২০ জন সহযোগী চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকিসহ সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা হয়েছে কি না, না হলে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে আবেদনে। ঘটনা–২: সরকারি সড়ক নির্মাণে বাধা ও মারধর!
৫ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ২টায় আলীয়া মাদ্রাসা থেকে কারিতাস মোড় পর্যন্ত সরকারি সড়ক নির্মাণকাজে একই চক্রের বিরুদ্ধে কাজে বাধা, চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ ওঠে।
আবেদনে জানতে চাওয়া হয়েছে—অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারায় আদালতে পাঠানোর পূর্ণ বিবরণ,কেন নিয়মিত মামলা (FIR) রুজু করা হয়নি,জামিনে মুক্তির পর পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ালেও কোনো নজরদারি বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না।
ঘটনা–৩: সাংবাদিকের ওপর সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট! –সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি এসেছে সংবাদকর্মী মামুনুর রশীদ মামুন–এর বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনায়। আবেদন অনুযায়ী,২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মামুনের ওপর সশস্ত্র হামলা,মারধর,চাঁদাবাজি, জিম্মি করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়,ভিডিও ধারণ এবং মামলা করলে খুন ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে—দুটি ইজিবাইক ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট,
একাধিকবার পুলিশকে অবহিত করেও কার্যকর সহায়তা না পাওয়া,বাসা পরিবর্তনের সময় হামলার ঘটনায় পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি না থাকা।
আবেদনে জানতে চাওয়া হয়েছে—এ ঘটনায় কোনো মামলা বা জিডি গ্রহণ করা হয়েছে কি না,
লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে,উদ্ধার না হলে সংশ্লিষ্ট নোটশিট,আদেশ বা সিদ্ধান্তপত্রের অনুলিপি,ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জেলা পুলিশের অবস্থান। বিশেষজ্ঞদের মতামত: পুলিশের করণীয় কী ছিল,কী আছে,কী থাকা উচিত
একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বলেন,
“চাঁদাবাজি,প্রাণনাশের হুমকি ও লুটপাট—এই তিনটি ঘটনাই আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য অপরাধ। পুলিশের দায়িত্ব ছিল তাৎক্ষণিক মামলা রুজু,অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তথ্য অধিকার আইনে প্রশ্ন এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়া আইনগত বাধ্যবাধকতা।” একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান,“একই চক্র বারবার অপরাধে জড়ালে নিয়মিত নজরদারি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে বিশেষ অভিযান নেওয়ার সুযোগ আইনেই আছে। সাংবাদিক আক্রান্ত হলে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।” একজন মানবাধিকার বিশ্লেষক বলেন,“সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়—এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আঘাত। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের নীরবতা ভবিষ্যতে আরও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ায়।” অপেক্ষায় জবাব, নজরে জনমত…আবেদনকারীর মতে,
“একাধিকবার পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা না পাওয়া শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যর্থতা নয়,এটি সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি।”
আইনজ্ঞদের মতে,তথ্য অধিকার আইনের ৯ ও ১০ ধারায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব আবেদনের জবাব দেওয়া জেলা পুলিশের আইনগত বাধ্যবাধকতা। একই সঙ্গে সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তথ্য অধিকার আইনে দায়ের করা এসব আবেদনের জবাব ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের স্বচ্ছতা,জবাবদিহি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বাস্তব চিত্র উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। চাঁদাবাজি,সন্ত্রাস ও সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার ব্যাখ্যা কী আসে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সচেতন মহল

ফুকরা স্ট্যান্ডে অটোভ্যান রাখার স্থান ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় মাটি ভরাট 










