ঢাকা , বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo ফুকরা স্ট্যান্ডে অটোভ্যান রাখার স্থান ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় মাটি ভরাট Logo এইউবিতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা Logo এইউবিতে ‘শিক্ষা পরিকল্পনায় মাতৃভাষার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন নরসিংদীর সন্তান সারোয়ার হোসেন মৃধা   Logo ” ‘মিকাত’ পবিত্র মক্কা নগরীর পবিত্রতা ও অনন্যতার এক উজ্জ্বল প্রতিক” Logo ময়মনসিংহে একই অভিযুক্তকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা Logo ময়মনসিংহে ডিডি আনোয়ার ও জাফর উল্লাহ কাজলের ঘুষ-দুর্নীতি ও অনুমোদন লেনদেনের বিতর্ক Logo প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীর Logo ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিশোরগঞ্জে ছাত্রশিবিরের র‍্যালি Logo গফরগাঁওয়ের নিগুয়ারিতে ইটভাটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি ও ঝুঁকিতে স্কুল-শিশুরা
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

ময়মনসিংহে ডিডি আনোয়ার ও জাফর উল্লাহ কাজলের ঘুষ-দুর্নীতি ও অনুমোদন লেনদেনের বিতর্ক

ময়মনসিংহে ডিডি আনোয়ার ও জাফর উল্লাহ কাজলের ঘুষ-দুর্নীতি ও অনুমোদন লেনদেনের বিতর্ক

 

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সরকারের অধীন সংস্থা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কাজ করে যাচ্ছে। তবে ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রম ঘিরে একাধিক অনিয়ম,আর্থিক অসঙ্গতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) আনোয়ার হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা,বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম,আর্থিক অসঙ্গতি এবং অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পরিচালক জাফর উল্লাহ কাজলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে—অভিযোগসমূহ যথাযথভাবে আমলে না নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়ে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বেড বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন: নীতিমালা মানা হয়েছে কি? অনুসন্ধানে জানা গেছে,জেলার কয়েকটি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বেড সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ৩০-এ উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী,প্রতিটি রোগীর জন্য ন্যূনতম ৮০ বর্গফুট জায়গা থাকা বাধ্যতামূলক। সে হিসেবে ৩০ রোগীর জন্য প্রয়োজন অন্তত ২ হাজার ৪০০ বর্গফুট স্থান। সরেজমিনে কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে,অভিযোগ অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জায়গা,আলো-বাতাস,আলাদা কাউন্সেলিং রুম,সার্বক্ষণিক চিকিৎসক,প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর এবং জরুরি চিকিৎসা সুবিধা নেই। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ,এসব ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি,বেড সংখ্যা বৃদ্ধির অনুমোদনের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি; অভিযোগ গুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। ফায়ার সার্ভিসের আপত্তি উপেক্ষার অভিযোগ! অভিযোগ রয়েছে,কিছু নিরাময় কেন্দ্রের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জায়গা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি,সেই আপত্তি সত্ত্বেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কার্যালয়ের অভ্যন্তরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ! ডিএনসি জেলা কার্যালয়ের ভেতরেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অফিসের স্টেশনারি,ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন ব্যবহারের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন একাধিক ব্যক্তি। এছাড়া কর্মচারীদের ভ্রমণ ভাতা (টিএ) বিল থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী,কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথিপত্র এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অবৈধ মদ ব্যবসা ও ‘মাসোয়ারা’ অভিযোগ! স্থানীয় সূত্রের দাবি,নাসিরাবাদ, মুক্তাগাছা,গফরগাঁও ও গৌরীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দেশি মদ ও চোলাই মদ উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি,মাসোয়ারা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযানের নামে হয়রানি বা মামলা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ–ফুলপুর:

ফুলপুরে ‘লাল সাধু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে গাঁজার মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তাঁর গরু বিক্রির টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং অভিযানের সময় এক গর্ভবতী গৃহবধূকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নান্দাইল: নান্দাইলের জুলেখা খাতুন অভিযোগ করেন,তাঁর বাসায় তল্লাশির কথা বলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে বিচার চাইতে অফিসে গেলে তাঁকে অপমান করা হয় এবং অসদাচরণ করে বের করে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। গৌরীপুর (শ্যামগঞ্জ স্টেশন এলাকা)

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে অভিযানের নামে আলামত ছাড়াই একটি পরিবারকে মাদক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,মাসোয়ারা না দেওয়ায় ওই পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানাতে চেষ্টা: অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। অতিরিক্ত পরিচালক জাফর উল্লাহ কাজলের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে,অভিযোগ গুলো গুরুত্বসহকারে যাচাই করা প্রয়োজন। সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে তদন্তের দাবি: মানবাধিকারকর্মী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো হওয়া উচিত নিরাপদ ও মানবিক পুনর্বাসনের স্থান। সেখানে যদি অনিয়ম বা আর্থিক স্বার্থ জড়িয়ে পড়ে,তবে তা রোগী ও রাষ্ট্র—উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সচেতন মহলের দাবি—সব মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ পুনঃতদন্ত,অনুমোদন প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান–অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা,রোগীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করা,এখন দেখার বিষয়—ময়মনসিংহে উত্থাপিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত কত দ্রুত শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়– জনআস্থার স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্তই সময়ের দাবি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুকরা স্ট্যান্ডে অটোভ্যান রাখার স্থান ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় মাটি ভরাট

ময়মনসিংহে ডিডি আনোয়ার ও জাফর উল্লাহ কাজলের ঘুষ-দুর্নীতি ও অনুমোদন লেনদেনের বিতর্ক

আপডেট সময় ০১:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহে ডিডি আনোয়ার ও জাফর উল্লাহ কাজলের ঘুষ-দুর্নীতি ও অনুমোদন লেনদেনের বিতর্ক

 

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সরকারের অধীন সংস্থা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কাজ করে যাচ্ছে। তবে ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রম ঘিরে একাধিক অনিয়ম,আর্থিক অসঙ্গতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) আনোয়ার হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা,বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম,আর্থিক অসঙ্গতি এবং অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পরিচালক জাফর উল্লাহ কাজলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে—অভিযোগসমূহ যথাযথভাবে আমলে না নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়ে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বেড বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন: নীতিমালা মানা হয়েছে কি? অনুসন্ধানে জানা গেছে,জেলার কয়েকটি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বেড সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ৩০-এ উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী,প্রতিটি রোগীর জন্য ন্যূনতম ৮০ বর্গফুট জায়গা থাকা বাধ্যতামূলক। সে হিসেবে ৩০ রোগীর জন্য প্রয়োজন অন্তত ২ হাজার ৪০০ বর্গফুট স্থান। সরেজমিনে কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে,অভিযোগ অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জায়গা,আলো-বাতাস,আলাদা কাউন্সেলিং রুম,সার্বক্ষণিক চিকিৎসক,প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর এবং জরুরি চিকিৎসা সুবিধা নেই। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ,এসব ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি,বেড সংখ্যা বৃদ্ধির অনুমোদনের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি; অভিযোগ গুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। ফায়ার সার্ভিসের আপত্তি উপেক্ষার অভিযোগ! অভিযোগ রয়েছে,কিছু নিরাময় কেন্দ্রের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জায়গা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি,সেই আপত্তি সত্ত্বেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কার্যালয়ের অভ্যন্তরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ! ডিএনসি জেলা কার্যালয়ের ভেতরেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অফিসের স্টেশনারি,ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন ব্যবহারের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন একাধিক ব্যক্তি। এছাড়া কর্মচারীদের ভ্রমণ ভাতা (টিএ) বিল থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী,কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথিপত্র এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অবৈধ মদ ব্যবসা ও ‘মাসোয়ারা’ অভিযোগ! স্থানীয় সূত্রের দাবি,নাসিরাবাদ, মুক্তাগাছা,গফরগাঁও ও গৌরীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দেশি মদ ও চোলাই মদ উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি,মাসোয়ারা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযানের নামে হয়রানি বা মামলা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ–ফুলপুর:

ফুলপুরে ‘লাল সাধু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে গাঁজার মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তাঁর গরু বিক্রির টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং অভিযানের সময় এক গর্ভবতী গৃহবধূকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নান্দাইল: নান্দাইলের জুলেখা খাতুন অভিযোগ করেন,তাঁর বাসায় তল্লাশির কথা বলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে বিচার চাইতে অফিসে গেলে তাঁকে অপমান করা হয় এবং অসদাচরণ করে বের করে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। গৌরীপুর (শ্যামগঞ্জ স্টেশন এলাকা)

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে অভিযানের নামে আলামত ছাড়াই একটি পরিবারকে মাদক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,মাসোয়ারা না দেওয়ায় ওই পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানাতে চেষ্টা: অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। অতিরিক্ত পরিচালক জাফর উল্লাহ কাজলের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে,অভিযোগ গুলো গুরুত্বসহকারে যাচাই করা প্রয়োজন। সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে তদন্তের দাবি: মানবাধিকারকর্মী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো হওয়া উচিত নিরাপদ ও মানবিক পুনর্বাসনের স্থান। সেখানে যদি অনিয়ম বা আর্থিক স্বার্থ জড়িয়ে পড়ে,তবে তা রোগী ও রাষ্ট্র—উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সচেতন মহলের দাবি—সব মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ পুনঃতদন্ত,অনুমোদন প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান–অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা,রোগীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করা,এখন দেখার বিষয়—ময়মনসিংহে উত্থাপিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত কত দ্রুত শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়– জনআস্থার স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্তই সময়ের দাবি।