ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের Logo নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে বিরুদ্ধে মানববন্ধন Logo এইউবিতে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক উৎসব Logo নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত, এম.এ আউয়াল সভাপতি, ভূইয়া সজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত Logo কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে গোলাপগঞ্জের হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার Logo ৩ লক্ষ পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত ঠিকানা- ড. সাদেক গ্রন্থাগার Logo স্বাধীনতা দিবসে বুটেক্সে ‘আধিপত্যবাদের একাল থেকে সেকাল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমেছে, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক চিত্র Logo বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে ড. আব্দুল মঈন খান Logo ময়মনসিংহে ভয় ও অপরাধ: চাঁদাবাজি–লুটপাট
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

পরিবারের ক্ষোভ–জনমতের চাপ: ডিবির দুঃসাহসী অভিযানে পলাতক ভাই–ভাবি আটক

পরিবারের ক্ষোভ–জনমতের চাপ: ডিবির দুঃসাহসী অভিযানে পলাতক ভাই–ভাবি আটক

জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ শেষ পর্যন্ত রূপ নিলো ভয়ংকর খুনে—এবার ভাইয়ের হাতে প্রাণ হারাল ভাই। ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডে নিহত হয়েছেন আজহারুল ইসলাম চুন্নু (৩২)।–ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম সুমন (৩৫) ও ভাবি জান্নাত আক্তার জলি (৩০)–কে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। হত্যার ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া—“ভাইয়ের হাতে ভাই মরলে,মানুষ বাঁচবে কীভাবে?”—এমন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। কীভাবে ঘটলো সেই ভয়াবহ ঘটনা? –পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সূত্র ধরে সেদিন দুপুরে নিজ বাড়ির উঠানে চুন্নুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ভাই-ভাবি। লোহার রড ও লাঠির আঘাতে মুহূর্তেই রক্তে লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে চরপাড়া রাজধানী ক্লিনিক,পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ২৩ অক্টোবর সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চুন্নুর ছোট ভাই রনি (২৫)–ও মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। নিহতের তরুণ স্ত্রী তানজিলা আক্তারের বুকফাটা আর্তনাদ— “দিনদুপুরে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই!” –স্থানীয়দের অভিযোগ: কিছু পুলিশ সদস্যের নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে অস্থিরতা!–স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য—ঘটনার পরপরই মামলা হলেও অভিযুক্তদের আটক করতে দেরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা টলে যাচ্ছে। কোতোয়ালী থানার কিছু কর্মকর্তার দুর্বল মনোভাব ও ব্যর্থতা প্রসঙ্গেও ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ঘাগড়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়াকে তারা দায়ী করছেন। ফলে— ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আশিক হত্যাকাণ্ড!–চুন্নু ভ্রাতৃহত্যা! পুলিশ জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। ডিবি পুলিশের দৃপ্ত অভিযান: ভুক্তভোগীদের মুখে ফিরেছে আশা।
–পরিবার ও এলাকাবাসীর দীর্ঘশ্বাস খানিকটা লাঘব করে অবশেষে বুধবার রাতে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (উত্তর)–এর ওসি আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে এএসআই জাহাঙ্গীর আলম–এর দক্ষ টিম কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সুমন ও জলিকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা ডিবি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন— “অপরাধী যে-ই হোক,ধরা পড়তেই হবে—ডিবি সেটা দেখিয়ে দিয়েছে।” –কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন—“মামলাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আইন যে আছে—তা প্রমাণ করতে হবে এখনই। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মুখে একটাই স্লোগান—“অপরাধীকে রক্ষা নয়—ন্যায়বিচার চাই!” শম্ভুগঞ্জের প্রতিটি ঘরে এখন প্রশ্ন—আর কত পরিবার ভাইয়ের হাতে ভাইকে হারাবে? আইনের ভয় যখন হারিয়ে যায়—সমাজ টিকবে কীভাবে?
নিহত চুন্নুর লাশ শীতল মাটিতে, কিন্তু তার স্ত্রীর চোখের আগুন নিভে যায়নি। সেই আগুনই আজ শম্ভুগঞ্জবাসীর বুকেও জ্বলছে!–অপরাধ করে কেউ পার পায় না—এই বার্তাই আজ উচ্চারণ করছে শম্ভুগঞ্জের মানুষ। বিচারের প্রহর গুনছে একটি বিধ্বস্ত পরিবার!—এখন অপেক্ষা আদালতের রায়ের,ন্যায় আর মানবতার জয়ের।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের

পরিবারের ক্ষোভ–জনমতের চাপ: ডিবির দুঃসাহসী অভিযানে পলাতক ভাই–ভাবি আটক

আপডেট সময় ০৯:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

পরিবারের ক্ষোভ–জনমতের চাপ: ডিবির দুঃসাহসী অভিযানে পলাতক ভাই–ভাবি আটক

জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ শেষ পর্যন্ত রূপ নিলো ভয়ংকর খুনে—এবার ভাইয়ের হাতে প্রাণ হারাল ভাই। ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডে নিহত হয়েছেন আজহারুল ইসলাম চুন্নু (৩২)।–ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম সুমন (৩৫) ও ভাবি জান্নাত আক্তার জলি (৩০)–কে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। হত্যার ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া—“ভাইয়ের হাতে ভাই মরলে,মানুষ বাঁচবে কীভাবে?”—এমন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। কীভাবে ঘটলো সেই ভয়াবহ ঘটনা? –পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সূত্র ধরে সেদিন দুপুরে নিজ বাড়ির উঠানে চুন্নুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ভাই-ভাবি। লোহার রড ও লাঠির আঘাতে মুহূর্তেই রক্তে লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে চরপাড়া রাজধানী ক্লিনিক,পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ২৩ অক্টোবর সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চুন্নুর ছোট ভাই রনি (২৫)–ও মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। নিহতের তরুণ স্ত্রী তানজিলা আক্তারের বুকফাটা আর্তনাদ— “দিনদুপুরে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই!” –স্থানীয়দের অভিযোগ: কিছু পুলিশ সদস্যের নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে অস্থিরতা!–স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য—ঘটনার পরপরই মামলা হলেও অভিযুক্তদের আটক করতে দেরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা টলে যাচ্ছে। কোতোয়ালী থানার কিছু কর্মকর্তার দুর্বল মনোভাব ও ব্যর্থতা প্রসঙ্গেও ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ঘাগড়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়াকে তারা দায়ী করছেন। ফলে— ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আশিক হত্যাকাণ্ড!–চুন্নু ভ্রাতৃহত্যা! পুলিশ জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। ডিবি পুলিশের দৃপ্ত অভিযান: ভুক্তভোগীদের মুখে ফিরেছে আশা।
–পরিবার ও এলাকাবাসীর দীর্ঘশ্বাস খানিকটা লাঘব করে অবশেষে বুধবার রাতে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (উত্তর)–এর ওসি আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে এএসআই জাহাঙ্গীর আলম–এর দক্ষ টিম কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সুমন ও জলিকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা ডিবি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন— “অপরাধী যে-ই হোক,ধরা পড়তেই হবে—ডিবি সেটা দেখিয়ে দিয়েছে।” –কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন—“মামলাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আইন যে আছে—তা প্রমাণ করতে হবে এখনই। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মুখে একটাই স্লোগান—“অপরাধীকে রক্ষা নয়—ন্যায়বিচার চাই!” শম্ভুগঞ্জের প্রতিটি ঘরে এখন প্রশ্ন—আর কত পরিবার ভাইয়ের হাতে ভাইকে হারাবে? আইনের ভয় যখন হারিয়ে যায়—সমাজ টিকবে কীভাবে?
নিহত চুন্নুর লাশ শীতল মাটিতে, কিন্তু তার স্ত্রীর চোখের আগুন নিভে যায়নি। সেই আগুনই আজ শম্ভুগঞ্জবাসীর বুকেও জ্বলছে!–অপরাধ করে কেউ পার পায় না—এই বার্তাই আজ উচ্চারণ করছে শম্ভুগঞ্জের মানুষ। বিচারের প্রহর গুনছে একটি বিধ্বস্ত পরিবার!—এখন অপেক্ষা আদালতের রায়ের,ন্যায় আর মানবতার জয়ের।