
ময়মনসিংহে মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের নামে চাঁদাবাজি ও সাজানো মামলা—নেতৃত্বে ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা!
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়েই কাজ করার কথা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)। কিন্তু ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর, ফুলপুর ও নান্দাইল এলাকায় মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি টিমের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগ—অবৈধ মাসোয়ারা আদায়, ঘুষ, হয়রানি ও সাজানো মামলা দায়েরের! গৌরীপুরে দেশী মদের দোকান থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ! অভিযোগ রয়েছে, গৌরীপুর বাজারের দেশী মদের দোকান ও শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকার অবৈধ ছোলাই মদের কারখানা থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মদের ব্যবসায়ীরা প্রতিমাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে “মাসোয়ারা” দিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি,এই টাকা সরাসরি জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘খ সার্কেল’ টিমে পৌঁছে যায়—যারা মাসোয়ারা সংগ্রহের মাধ্যমে পুরো চক্র পরিচালনা করে। ফুলপুরে নিরীহ লাল সাধুর ঘর লুট—তারপর গাঁজা সাজিয়ে মামলা! জুলাই মাসে ফুলপুর উপজেলার পলাশ কান্দা গ্রামের নিরীহ ধর্মপ্রাণ ভক্ত লাল সাধুর ঘরে তল্লাশির নামে প্রবেশ করে টিমটি। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা গরু বিক্রির ১ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায় এবং সাজানো মামলার জব্দ তালিকায় সেই টাকা থেকে মাত্র ৯২ হাজার টাকা “গাঁজা বিক্রির অর্থ” হিসেবে দেখায়। এমনকি টিমটি নিজে নিয়ে আসা ১০০ গ্রাম গাঁজা বৃদ্ধ লাল সাধুর নামে দেখিয়ে মামলা করে তাকে কারাগারে পাঠায়। এলাকাবাসীর দাবি—তল্লাশির সময় লাল সাধুর, গর্ভবতী পুত্রবধূকে নির্যাতন করা হয়,যা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে! নান্দাইলে নারী জুলেখার ঘরে চুরি ও সাজানো মামলা! –নান্দাইল উপজেলার মহেশ কুড়া গ্রামের জুলেখা বেগমের বাড়িতে একই ধরণের তল্লাশি অভিযানের নামে ঘরে ঢুকে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট করার অভিযোগ উঠেছে। পরে সামান্য পরিমাণ গাঁজা দেখিয়ে তার নামে মামলা করা হয়। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গেলে তাকে উল্টো শাসিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। (মামলা নং-০৭, তাং-০৮/১০/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা ৩৬(১) সারণির ১৯(ক)/৪১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮) প্রশ্নবিদ্ধ নেতৃত্ব—ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা বেগমঃ উক্ত টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা বেগম, যিনি ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যোগদানের পর থেকেই ঘুষ, অনিয়ম, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মুখে রয়েছেন। সূত্র জানায়,অভিযানের নামে মাসোয়ারা বাণিজ্য ও লুটপাটে তাকে সহযোগিতা করেন সিপাহি সুহেল ও সিপাহি কায়কোবাদ পাভেল—যার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিস্তার—ময়মনসিংহ থেকে হালুয়াঘাট পর্যন্ত! তদন্তে জানা গেছে,শুধু গৌরীপুর-ফুলপুর-নান্দাইল নয়, ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্র থেকেও চলছে একই ধরনের মাসোয়ারা ব্যবসা। নাসিরাবাদ পতিতালয় এলাকার দেশী মদের দোকান থেকে প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা, মুক্তাগাছার আটানি বাজার থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং গৌরীপুর বাজার দেশী মদের দোকান থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থও নিয়মিতভাবে ‘খ সার্কেল’ টিমের কাছে পৌঁছে যায়। হালুয়াঘাট সরকারি দেশী মদ বিক্রি বন্ধ থাকলেও এলাকাজুড়ে অবৈধ ছোলাই মদের বাণিজ্য চলছে—তবে শর্ত একটাই, মাসোয়ারা দিতে হবে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে! এর ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অথচ টিমের কিছু সদস্য ব্যক্তিগতভাবে লাখো টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন। জনমনে ক্ষোভ,প্রশাসনের দৃষ্টি কামনাঃ গৌরীপুর,ফুলপুর ও নান্দাইলসহ পুরো ময়মনসিংহ জেলায় এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন—“মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে এমন অপকর্ম রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ধ্বংস করছে। নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে টাকায় বাণিজ্য করা হচ্ছে!” আইন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে,এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। কারণ,যদি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতেই নিরীহ জনগণ নিরাপদ না থাকে—তাহলে ন্যায়বিচার ও গণবিশ্বাস দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। অভিযুক্তদের দাবি—সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত! তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা বেগম ও তার টিমের সদস্যরা অভিযোগ গুলো অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি,এটি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও স্বার্থান্বেষী মহলের মিথ্যা প্রচারণা; তারা নিয়মিত আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। জনগণের প্রত্যাশা—ময়মনসিংহ বিভাগের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে এসব গুরুতর অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
কারণ,জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—“মাদক দমনকারীরাই যদি মাদক ব্যবসার মাসোয়ারা নেয়,তবে জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?”

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের 









