ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের Logo নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে বিরুদ্ধে মানববন্ধন Logo এইউবিতে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক উৎসব Logo নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত, এম.এ আউয়াল সভাপতি, ভূইয়া সজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত Logo কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে গোলাপগঞ্জের হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার Logo ৩ লক্ষ পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত ঠিকানা- ড. সাদেক গ্রন্থাগার Logo স্বাধীনতা দিবসে বুটেক্সে ‘আধিপত্যবাদের একাল থেকে সেকাল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমেছে, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক চিত্র Logo বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে ড. আব্দুল মঈন খান Logo ময়মনসিংহে ভয় ও অপরাধ: চাঁদাবাজি–লুটপাট
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

মাঠপর্যায়ের সেবায় মানবিক ছোঁয়া—ময়মনসিংহে আদর্শ মডেল তৈরি করলেন তামান্না হোরায়রা

মাঠপর্যায়ের সেবায় মানবিক ছোঁয়া—ময়মনসিংহে আদর্শ মডেল তৈরি করলেন তামান্না হোরায়রা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় ভূমি সেবাকে জনবান্ধব ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা তামান্না হোরায়রা। কর্মদক্ষতা, মেধা, শুদ্ধ প্রশাসন চর্চা ও সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে তিনি ময়মনসিংহ জেলায় কর্ম মূল্যায়নে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে তার এই অর্জন ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। ভূমি সেবায় বিপ্লব—স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে অগ্রগামীঃ সদর উপজেলার ভূমি অফিস দীর্ঘদিন ধরে জনভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সেবা প্রাপ্তিতে বিলম্বের অভিযোগে পরিচিত ছিল। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়েই তামান্না হোরায়রা ভূমি সেবা সহজীকরণে এক রকম নীরব বিপ্লব ঘটান। তিনি হাতে নেন বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ—মোবাইল কোর্টে নিয়মিত অভিযান, অনিয়ম-দুর্নীতি দমন, অনলাইন খতিয়ান,নামজারি,পর্চা প্রদান দ্রুততর করা,দালালচক্রমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত,ভূমি সেবায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে তৎপরতা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিঃ স্থানীয়দের দাবি—ভূমি অফিসে এখন আর আগের মতো ভোগান্তি নেই। সেবার মান বেড়েছে, দুর্নীতি কমেছে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।
সেবামুখী প্রশাসনের মডেলঃ ভূমি ব্যবস্থাপনায় তার নেতৃত্বে সদর উপজেলায় তৈরি হয়েছে “সেবামুখী প্রশাসনের” একটি আদর্শ মডেল। প্রতিদিন অফিসে হাজির সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—“আগে নামজারি করতে মাসের পর মাস দৌড়াতে হতো। এখন নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাজ পাই। ম্যাডাম কঠোর কিন্তু ন্যায়পরায়ণ”—এমন মন্তব্যই শোনা যায় সর্বত্র।
উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই বহুবার মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন, অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেন। সাধারণ মানুষের জন্য তার দরজা সারাদিন খোলা থাকে—যা একজন ভূমি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। জেলা প্রশাসনের স্বীকৃতি—কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে দ্বিতীয়ঃ ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে তার কৃতিত্ব স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তিনি জেলার সকল এসি ল্যান্ডের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জেলা প্রশাসনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান,“ভূমি সেবায় দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের ক্ষেত্রে তিনি একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন।” জনগণের দাবি—এমন কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
ভূমি সেবার অভিজ্ঞতা জানাতে এসে এক প্রবীণ নাগরিক বলেন—“দীর্ঘ জীবনে এমন ভূমি অফিস দেখিনি। সাধারণ মানুষের কথা শোনার মানুষ পাওয়া যায় কম। তামান্না ম্যাডাম আমাদের জন্য আশীর্বাদ।” নাগরিক সমাজের দাবি,জেলা বা বিভাগে এমন উদ্যোগী ও দক্ষ কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো গেলে ভূমি খাতে দীর্ঘ দিনের অনিয়ম অনেকটাই দূর হবে।

ময়মনসিংহ সদরের ভূমি সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের যে ঢেউ তৈরি হয়েছে—তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হোরায়রা। দক্ষতা,সততা ও মানবিক সেবা—এই তিন গুণে তিনি হয়ে উঠেছেন স্থানীয় প্রশাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি ময়মনসিংহের মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের একটি বড় ধাপ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের

মাঠপর্যায়ের সেবায় মানবিক ছোঁয়া—ময়মনসিংহে আদর্শ মডেল তৈরি করলেন তামান্না হোরায়রা

আপডেট সময় ০৪:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

মাঠপর্যায়ের সেবায় মানবিক ছোঁয়া—ময়মনসিংহে আদর্শ মডেল তৈরি করলেন তামান্না হোরায়রা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় ভূমি সেবাকে জনবান্ধব ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা তামান্না হোরায়রা। কর্মদক্ষতা, মেধা, শুদ্ধ প্রশাসন চর্চা ও সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে তিনি ময়মনসিংহ জেলায় কর্ম মূল্যায়নে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে তার এই অর্জন ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। ভূমি সেবায় বিপ্লব—স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে অগ্রগামীঃ সদর উপজেলার ভূমি অফিস দীর্ঘদিন ধরে জনভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সেবা প্রাপ্তিতে বিলম্বের অভিযোগে পরিচিত ছিল। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়েই তামান্না হোরায়রা ভূমি সেবা সহজীকরণে এক রকম নীরব বিপ্লব ঘটান। তিনি হাতে নেন বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ—মোবাইল কোর্টে নিয়মিত অভিযান, অনিয়ম-দুর্নীতি দমন, অনলাইন খতিয়ান,নামজারি,পর্চা প্রদান দ্রুততর করা,দালালচক্রমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত,ভূমি সেবায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে তৎপরতা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিঃ স্থানীয়দের দাবি—ভূমি অফিসে এখন আর আগের মতো ভোগান্তি নেই। সেবার মান বেড়েছে, দুর্নীতি কমেছে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।
সেবামুখী প্রশাসনের মডেলঃ ভূমি ব্যবস্থাপনায় তার নেতৃত্বে সদর উপজেলায় তৈরি হয়েছে “সেবামুখী প্রশাসনের” একটি আদর্শ মডেল। প্রতিদিন অফিসে হাজির সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—“আগে নামজারি করতে মাসের পর মাস দৌড়াতে হতো। এখন নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাজ পাই। ম্যাডাম কঠোর কিন্তু ন্যায়পরায়ণ”—এমন মন্তব্যই শোনা যায় সর্বত্র।
উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই বহুবার মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন, অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেন। সাধারণ মানুষের জন্য তার দরজা সারাদিন খোলা থাকে—যা একজন ভূমি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। জেলা প্রশাসনের স্বীকৃতি—কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে দ্বিতীয়ঃ ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে তার কৃতিত্ব স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তিনি জেলার সকল এসি ল্যান্ডের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জেলা প্রশাসনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান,“ভূমি সেবায় দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের ক্ষেত্রে তিনি একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন।” জনগণের দাবি—এমন কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
ভূমি সেবার অভিজ্ঞতা জানাতে এসে এক প্রবীণ নাগরিক বলেন—“দীর্ঘ জীবনে এমন ভূমি অফিস দেখিনি। সাধারণ মানুষের কথা শোনার মানুষ পাওয়া যায় কম। তামান্না ম্যাডাম আমাদের জন্য আশীর্বাদ।” নাগরিক সমাজের দাবি,জেলা বা বিভাগে এমন উদ্যোগী ও দক্ষ কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো গেলে ভূমি খাতে দীর্ঘ দিনের অনিয়ম অনেকটাই দূর হবে।

ময়মনসিংহ সদরের ভূমি সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের যে ঢেউ তৈরি হয়েছে—তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হোরায়রা। দক্ষতা,সততা ও মানবিক সেবা—এই তিন গুণে তিনি হয়ে উঠেছেন স্থানীয় প্রশাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি ময়মনসিংহের মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের একটি বড় ধাপ।