ঢাকা , সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo ফুকরা স্ট্যান্ডে অটোভ্যান রাখার স্থান ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় মাটি ভরাট Logo এইউবিতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা Logo এইউবিতে ‘শিক্ষা পরিকল্পনায় মাতৃভাষার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন নরসিংদীর সন্তান সারোয়ার হোসেন মৃধা   Logo ” ‘মিকাত’ পবিত্র মক্কা নগরীর পবিত্রতা ও অনন্যতার এক উজ্জ্বল প্রতিক” Logo ময়মনসিংহে একই অভিযুক্তকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা Logo ময়মনসিংহে ডিডি আনোয়ার ও জাফর উল্লাহ কাজলের ঘুষ-দুর্নীতি ও অনুমোদন লেনদেনের বিতর্ক Logo প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীর Logo ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিশোরগঞ্জে ছাত্রশিবিরের র‍্যালি Logo গফরগাঁওয়ের নিগুয়ারিতে ইটভাটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি ও ঝুঁকিতে স্কুল-শিশুরা
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: একটি অবহেলিত সম্পর্ক

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭০ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: একটি অবহেলিত সম্পর্ক

মেহবুবা শারমিন

শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে।মানুষের চেহারা বিশিষ্ট রক্ত মাংসের শরীরটাকে চিন্তা ,চেতনা ,মেধা ও মননে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে শিক্ষা। তবে এই শিক্ষা হতে হবে যান্ত্রিকতাহীন জীবমুখী শিক্ষা। কাজী নজরুল ইসলাম তার “সত্য শিক্ষা “প্রবন্ধে বলেছেন ,শিক্ষা শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়। তিনি শুধু জ্ঞান অর্জনের নামে শিক্ষা গ্রহণের পক্ষপাতি ছিলেন না, তার মতে শিক্ষা স্বজাতীয় জাতির চরিত্রের রূপগত পরিবর্তন করতে সম্ভব ।কাজী নজরুল ইসলাম তার “জাতীয় শিক্ষা ” প্রবন্ধে শিক্ষার দুটি মৌলিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন , তা হচ্ছে সৃজনশীলতার চর্চা ও ব্যবহারিক জীবনে মুক্তি, তিনি বলেন , “আমরা চাই ,আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি এমন হোক যাহা আমাদের জীবন শক্তিকে ক্রমেই সজাগ,জীবন্ত করিয়ে তুলিবে, যে শিক্ষা ছেলেদের দেহ ও মন দুইকেই পুষ্ট করে তাহাই হইবে আমাদের শিক্ষা…. এই দুই শক্তিকে— প্রাণশক্তি ও কর্মশক্তিকে একীভূত করায় যেন আমাদের শিক্ষার বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়; ইহাই আমাদের একান্ত প্রার্থনা — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়/ (যুগবাণী) ।

কিন্তু বাংলাদেশ সৃষ্টির এত বছর পরেও আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি যান্ত্রিকতামুক্ত নয় ।এমন বাস্তবতায় প্রতিধ্বনিত হয় রবীন্দ্রনাথের কথায় , “ইস্কুল বলিতে আমরা যাহা বুঝি সে একটা শিক্ষা দেবার কল, মাস্টার এই কারখানার একটা অংশ. .ছাত্ররা দুই পাতা কলে ছাটা বিদ্যা লইয়া বাড়ি ফেরে ।তারপর পরীক্ষার সময় এই বিদ্যার যাচাই হইয়া তাহার উপরে মার্ক পড়িয়া যায় “(শিক্ষাসমস্যা)। শুধু বিদ্যালয় নয় ,মহাবিদ্যালয় ,বিশ্ববিদ্যালেয়ও এমন পুঁথিগত বিদ্যায় প্রচলিত ।প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা, গৎবাধাঁ পাঠদান পদ্ধতি, আর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অপ্রতুলতায় এই শিক্ষা ও প্রকৃত শিক্ষার মধ্যে অসামঞ্জস্যতার জন্য দায়ী ।এই পুঁথিগত ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমরা যা শিখছি তা শুধু বিদ্যা, শিক্ষা নয় ।এই শিক্ষা আলোকিত মানুষ গড়ে তুলতে সহায়ক নয়। এই শিক্ষা সমাজের মানুষ হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে শেখাতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ তার “শিক্ষার হেরফের” প্রবন্ধে বলেছেন, “আমরা যে শিক্ষা আজন্মকাল যাপন করি সে কেবল যে আমাদিগকে কেরানিগিরি অথবা কোন একটা ব্যবসায়ের উপযোগী করে মাত্র, যে সিন্দুকের মধ্যে আপিসের শামলা এবং চাদর ভাঁজ করিয়ে রাখি সেই সিন্দুকের মধ্যেই যে আমাদের সমস্ত বিদ্যাকে তুলিয়ে রাখিয়া দিই ,আটপৌরে দৈনিক জীবনে তাহার যে কোন ব্যবহার নাই, ইহা বর্তমান শিক্ষাগুণে অবশ্যম্ভাবী হইয়া উঠিয়েছে” শিক্ষাকে সমাজ মুখী করতে হলে শুধু পাঠ্যক্রম বিশেষভাবে প্রণীত করতে হবে তাই নয় ,পরিবর্তন আনতে হবে পাঠদান পদ্ধতিতে। একজন সুশিক্ষকই পারে সুশিক্ষিত মানুষ গড়ে তুলতে। সুশিক্ষক শুধু মেধায় নয়, চিন্তা, চেতনা, দর্শনেও স্বচ্ছ, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই একজন সুশিক্ষক

শ্রেণীতে শুধু পাঠ্যপুস্তকই আলোচনা করেন না, শ্রেণিকক্ষই তার জন্য হয়ে উঠতে পারে সমাজের একটি ক্ষুদ্র চিত্র। ছাত্র—ছাত্রীদের মধ্যে তিনি জাগিয়ে তুলতে পারেন দেশাত্মবোধ, শেখাতে পারেন সামাজিক মানুষ হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা । পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে কোন কোন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী কে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাঠ্যক্রমে মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি সহ—শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরি করতে সহায়ক হবে ।মৌলিক শিক্ষা তাদেরকে জীবিকা ও কর্মসংস্থানে সাহায্য করবে কিন্তু সহশিক্ষা তাদের ভিতর মানবিক চেতনা জাগ্রত করবে, তাকে মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হতে

সহায়তা করবে ।স্কুল পর্যায়ে স্কাউট, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বি এন সি সি, রোভার স্কাউট এর মত ঐচ্ছিক বিষয়গুলোকে বাধ্যতামূলক করার মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের সামাজিক গুণাবলীসম্পন্ন, মানবিক, নেতৃত্ব গুণ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়ও সর্বাধিক। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি সেই দয়াবদ্ধতা মেটাতে পারছে ? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে কর্মসংস্থান মুখী শিক্ষার বড় কদর। শিক্ষাকে এখন বাজারমুখী শিক্ষায় করা হয়েছে। এই শিক্ষার নেই মননের চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা প্রদান, নতুন জ্ঞানের সৃজন ও সঞ্চালন। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করলেও সমাজে তার প্রয়োগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।

 

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টিতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কাজ করে চলেছে । মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব কার্যক্রম। ক্লাবগুলোর মধ্যে বেশ কিছু উল্লেখ্যযোগ্য ক্লাব রয়েছে যেগুলো আমাদের সমাজ ও দেশের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। যেমন সবুজ বাংলাদেশ সংগঠন ,সোশ্যাল ক্লাব।এই ক্লাবগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তার ক্যাম্পাসের ও আশেপাশের পরিবেশকে সুন্দর রাখতে শেখানো হচ্ছে, সামাজিক বনায়নে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে ইউথ ফর বেটার ফিউচার ,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ইউথ অ্যাসোসিয়েশন এর মত সামাজিক সংগঠন, যা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করেছে শিক্ষার্থীদেরকে সিরাত ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারনা দেওয়া হয়। , আরো আছে ব্লাড গ্রুপ ,এই গ্রুপের মাধ্যমে শুধু ইউনিভার্সিটি নিজস্ব ক্যাম্পাসেই নয় বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে। স্পোর্টস ক্লাব, ক্যারাতে ও ফিটনেস ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে শারীরিকভাবে ফিট থেকে নিজেদেরকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে সাহায্য করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নীতি নৈতিকতা তৈরি করতে রয়েছে ইথিকস এন্ড ডাইভারসিটি ক্লাব। শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী কর্মস্থানে দক্ষতা বৃদ্ধিতে এখানে রয়েছে এক্সিলেন্স ক্লাব, কম্পিউটার ও ইনফরমেটিভ ক্লাব। মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের কে আগামীর একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করছে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি’র অফ বাংলাদেশের মত সমাজলগ্ন বিষয়গুলো চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক বিষয়গুলোর উন্মেষ ঘটাতে পারে।

একজন শিক্ষার্থী মৌলিক শিক্ষা দিয়ে তার কর্মসংস্থান করে নেবে। পাশাপাশি এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে, আরামদায়ক সুস্থ পরিবেশে আমাদের বেঁচে থাকতে হলে আমাদের আগামী প্রজন্মকে হতে হবে মানবিক ,সচেতন, নেতৃত্বদানে পারদর্শী । তাই আসুন সমাজলগ্ন শিক্ষার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এই অবহেলিত সম্পর্ককে পিছনে ফেলে গড়ে তুলি সুন্দর আগামী।

লেখক সহকারী অধ্যাপক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুকরা স্ট্যান্ডে অটোভ্যান রাখার স্থান ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় মাটি ভরাট

শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: একটি অবহেলিত সম্পর্ক

আপডেট সময় ০২:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: একটি অবহেলিত সম্পর্ক

মেহবুবা শারমিন

শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে।মানুষের চেহারা বিশিষ্ট রক্ত মাংসের শরীরটাকে চিন্তা ,চেতনা ,মেধা ও মননে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে শিক্ষা। তবে এই শিক্ষা হতে হবে যান্ত্রিকতাহীন জীবমুখী শিক্ষা। কাজী নজরুল ইসলাম তার “সত্য শিক্ষা “প্রবন্ধে বলেছেন ,শিক্ষা শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়। তিনি শুধু জ্ঞান অর্জনের নামে শিক্ষা গ্রহণের পক্ষপাতি ছিলেন না, তার মতে শিক্ষা স্বজাতীয় জাতির চরিত্রের রূপগত পরিবর্তন করতে সম্ভব ।কাজী নজরুল ইসলাম তার “জাতীয় শিক্ষা ” প্রবন্ধে শিক্ষার দুটি মৌলিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন , তা হচ্ছে সৃজনশীলতার চর্চা ও ব্যবহারিক জীবনে মুক্তি, তিনি বলেন , “আমরা চাই ,আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি এমন হোক যাহা আমাদের জীবন শক্তিকে ক্রমেই সজাগ,জীবন্ত করিয়ে তুলিবে, যে শিক্ষা ছেলেদের দেহ ও মন দুইকেই পুষ্ট করে তাহাই হইবে আমাদের শিক্ষা…. এই দুই শক্তিকে— প্রাণশক্তি ও কর্মশক্তিকে একীভূত করায় যেন আমাদের শিক্ষার বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়; ইহাই আমাদের একান্ত প্রার্থনা — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়/ (যুগবাণী) ।

কিন্তু বাংলাদেশ সৃষ্টির এত বছর পরেও আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি যান্ত্রিকতামুক্ত নয় ।এমন বাস্তবতায় প্রতিধ্বনিত হয় রবীন্দ্রনাথের কথায় , “ইস্কুল বলিতে আমরা যাহা বুঝি সে একটা শিক্ষা দেবার কল, মাস্টার এই কারখানার একটা অংশ. .ছাত্ররা দুই পাতা কলে ছাটা বিদ্যা লইয়া বাড়ি ফেরে ।তারপর পরীক্ষার সময় এই বিদ্যার যাচাই হইয়া তাহার উপরে মার্ক পড়িয়া যায় “(শিক্ষাসমস্যা)। শুধু বিদ্যালয় নয় ,মহাবিদ্যালয় ,বিশ্ববিদ্যালেয়ও এমন পুঁথিগত বিদ্যায় প্রচলিত ।প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা, গৎবাধাঁ পাঠদান পদ্ধতি, আর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অপ্রতুলতায় এই শিক্ষা ও প্রকৃত শিক্ষার মধ্যে অসামঞ্জস্যতার জন্য দায়ী ।এই পুঁথিগত ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমরা যা শিখছি তা শুধু বিদ্যা, শিক্ষা নয় ।এই শিক্ষা আলোকিত মানুষ গড়ে তুলতে সহায়ক নয়। এই শিক্ষা সমাজের মানুষ হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে শেখাতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ তার “শিক্ষার হেরফের” প্রবন্ধে বলেছেন, “আমরা যে শিক্ষা আজন্মকাল যাপন করি সে কেবল যে আমাদিগকে কেরানিগিরি অথবা কোন একটা ব্যবসায়ের উপযোগী করে মাত্র, যে সিন্দুকের মধ্যে আপিসের শামলা এবং চাদর ভাঁজ করিয়ে রাখি সেই সিন্দুকের মধ্যেই যে আমাদের সমস্ত বিদ্যাকে তুলিয়ে রাখিয়া দিই ,আটপৌরে দৈনিক জীবনে তাহার যে কোন ব্যবহার নাই, ইহা বর্তমান শিক্ষাগুণে অবশ্যম্ভাবী হইয়া উঠিয়েছে” শিক্ষাকে সমাজ মুখী করতে হলে শুধু পাঠ্যক্রম বিশেষভাবে প্রণীত করতে হবে তাই নয় ,পরিবর্তন আনতে হবে পাঠদান পদ্ধতিতে। একজন সুশিক্ষকই পারে সুশিক্ষিত মানুষ গড়ে তুলতে। সুশিক্ষক শুধু মেধায় নয়, চিন্তা, চেতনা, দর্শনেও স্বচ্ছ, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই একজন সুশিক্ষক

শ্রেণীতে শুধু পাঠ্যপুস্তকই আলোচনা করেন না, শ্রেণিকক্ষই তার জন্য হয়ে উঠতে পারে সমাজের একটি ক্ষুদ্র চিত্র। ছাত্র—ছাত্রীদের মধ্যে তিনি জাগিয়ে তুলতে পারেন দেশাত্মবোধ, শেখাতে পারেন সামাজিক মানুষ হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা । পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে কোন কোন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী কে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাঠ্যক্রমে মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি সহ—শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরি করতে সহায়ক হবে ।মৌলিক শিক্ষা তাদেরকে জীবিকা ও কর্মসংস্থানে সাহায্য করবে কিন্তু সহশিক্ষা তাদের ভিতর মানবিক চেতনা জাগ্রত করবে, তাকে মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হতে

সহায়তা করবে ।স্কুল পর্যায়ে স্কাউট, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বি এন সি সি, রোভার স্কাউট এর মত ঐচ্ছিক বিষয়গুলোকে বাধ্যতামূলক করার মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের সামাজিক গুণাবলীসম্পন্ন, মানবিক, নেতৃত্ব গুণ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়ও সর্বাধিক। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি সেই দয়াবদ্ধতা মেটাতে পারছে ? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে কর্মসংস্থান মুখী শিক্ষার বড় কদর। শিক্ষাকে এখন বাজারমুখী শিক্ষায় করা হয়েছে। এই শিক্ষার নেই মননের চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা প্রদান, নতুন জ্ঞানের সৃজন ও সঞ্চালন। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করলেও সমাজে তার প্রয়োগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।

 

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টিতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কাজ করে চলেছে । মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব কার্যক্রম। ক্লাবগুলোর মধ্যে বেশ কিছু উল্লেখ্যযোগ্য ক্লাব রয়েছে যেগুলো আমাদের সমাজ ও দেশের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। যেমন সবুজ বাংলাদেশ সংগঠন ,সোশ্যাল ক্লাব।এই ক্লাবগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তার ক্যাম্পাসের ও আশেপাশের পরিবেশকে সুন্দর রাখতে শেখানো হচ্ছে, সামাজিক বনায়নে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে ইউথ ফর বেটার ফিউচার ,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ইউথ অ্যাসোসিয়েশন এর মত সামাজিক সংগঠন, যা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করেছে শিক্ষার্থীদেরকে সিরাত ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারনা দেওয়া হয়। , আরো আছে ব্লাড গ্রুপ ,এই গ্রুপের মাধ্যমে শুধু ইউনিভার্সিটি নিজস্ব ক্যাম্পাসেই নয় বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে। স্পোর্টস ক্লাব, ক্যারাতে ও ফিটনেস ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে শারীরিকভাবে ফিট থেকে নিজেদেরকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে সাহায্য করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নীতি নৈতিকতা তৈরি করতে রয়েছে ইথিকস এন্ড ডাইভারসিটি ক্লাব। শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী কর্মস্থানে দক্ষতা বৃদ্ধিতে এখানে রয়েছে এক্সিলেন্স ক্লাব, কম্পিউটার ও ইনফরমেটিভ ক্লাব। মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের কে আগামীর একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করছে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি’র অফ বাংলাদেশের মত সমাজলগ্ন বিষয়গুলো চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক বিষয়গুলোর উন্মেষ ঘটাতে পারে।

একজন শিক্ষার্থী মৌলিক শিক্ষা দিয়ে তার কর্মসংস্থান করে নেবে। পাশাপাশি এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে, আরামদায়ক সুস্থ পরিবেশে আমাদের বেঁচে থাকতে হলে আমাদের আগামী প্রজন্মকে হতে হবে মানবিক ,সচেতন, নেতৃত্বদানে পারদর্শী । তাই আসুন সমাজলগ্ন শিক্ষার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এই অবহেলিত সম্পর্ককে পিছনে ফেলে গড়ে তুলি সুন্দর আগামী।

লেখক সহকারী অধ্যাপক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।