
৩ লক্ষ পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত ঠিকানা- ড. সাদেক গ্রন্থাগার
ফাহমিদা হোসেন
গ্রন্থাগার নিছক বইয়ের সংগ্রহশালা নয়—এটি অগণিত মনের মিলনস্থল, চিন্তার পরশমণি এবং জ্ঞানের পরমায়ু লাভের তীর্থস্থান। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ড. সাদেক গ্রন্থাগারটিকে তাই আমি শুধু একটি গ্রন্থাগার হিসেবে নয়, বরং দেখতে চাই এক আবেগের নাম হিসেবে—যা তিন লক্ষ শিক্ষার্থীর মননে গভীরভাবে বুনে দেওয়া এক অমূল্য স্মৃতির ক্যানভাস। যেখানে প্রতিটি শেলফ যেন সাজানো রয়েছে স্বপ্নিল আয়োজনে।
ডিজিটাল যুগে তথ্য এখন হাতের মুঠোয়, তবুও একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের আবেদন কখনো ম্লান হয় না। জ্ঞানচর্চার সেই চিরন্তন ঐতিহ্যকে ধারণ করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে ড. সাদেক গ্রন্থাগার। যেটি শিক্ষা, গবেষণা ও মননের এক উজ্জ্বল ঠিকানা। মাত্র তিনটি শেলফ ও তিনশত বই নিয়ে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারে। বর্তমানে এখানে রয়েছে এক লক্ষ বিশ হাজারেরও বেশি বই, গবেষণা জার্নাল এবং সমৃদ্ধ শিক্ষাসামগ্রী। আধুনিক ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে পাঠকরা তেতাল্লিশ মিলিয়ন বই ও আটান্ন মিলিয়ন গবেষণা নিবন্ধের বৈশ্বিক তথ্যভান্ডারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।
গ্রন্থাগারটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর সুশৃঙ্খল বিভাগায়ন। ব্যবসায় প্রশাসন থেকে শুরু করে ইংরেজি, কম্পিউটার সায়েন্স, অর্থনীতি, ইসলামিক স্টাডিজ, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান, সরকার ও রাজনীতি এবং শিক্ষা বিভাগের জন্য রয়েছে পৃথক কর্নার। ফলে শিক্ষার্থীরা সহজেই নিজেদের বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় বই ও গবেষণা উপকরণ খুঁজে পায়।
গ্রন্থাগারের বিশেষ আকর্ষণ বিভিন্ন থিমভিত্তিক কর্নার। ‘ড. সাদেক কর্নার’-এ সংরক্ষিত রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা ড. আবুল হাসান এম. সাদেক-এর সকল প্রকাশিত গ্রন্থ। ‘এশিয়া ফাউন্ডেশন কর্নার’ সমৃদ্ধ প্রায় ষাট হাজারের অধিক অরিজিনাল বই ও অভিধানের সংগ্রহে। পাশাপাশি ‘বিআইআইটি কর্নার’ ও ‘আমানুল্লাহ খান কর্নার’ গবেষণা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটভিত্তিক জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।
এ পর্যন্ত তিন লক্ষেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট এই গ্রন্থাগারের সেবা গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক পাঠকক্ষ, যৌথ পাঠের ব্যবস্থা, শিক্ষকদের জন্য নিরিবিলি গবেষণাকক্ষ সব মিলিয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করে।
শুধু বই পড়া নয়, শিক্ষার্থীদের গ্রন্থমুখী করতে এখানে নিয়মিত আয়োজন করা হয় পাঠচক্র, বইপাঠ ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, শিক্ষা সফর এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাতীয় সংসদ ভবন গ্রন্থাগার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোনারগাঁও জাদুঘর পরিদর্শনের মতো কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে।
আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনে ইআরপি (ERP) সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে বই অনুসন্ধান, ইস্যু ও রিটার্ন করার সুবিধা চালু রয়েছে। মোবাইল ও ইমেইলের মাধ্যমে পাঠকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গ্রন্থাগার সেবাকে করেছে আরও সহজ ও গতিশীল।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই জ্ঞানদ্বার। সবুজ পরিবেশ ও নান্দনিক পাঠকক্ষ পাঠকদের নিয়ে যায় মননশীল এক শান্ত জগতে।
ছোট্ট সূচনা থেকে আজকের গৌরবময় অবস্থানে পৌঁছে ড. সাদেক গ্রন্থাগার সত্যিই জ্ঞানচর্চার এক অনন্য আলোকবর্তিকা। যা শিক্ষা ও গবেষণার পথকে আলোকিত করে চলেছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান, সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের 














