ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের Logo নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে বিরুদ্ধে মানববন্ধন Logo এইউবিতে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক উৎসব Logo নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত, এম.এ আউয়াল সভাপতি, ভূইয়া সজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত Logo কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে গোলাপগঞ্জের হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার Logo ৩ লক্ষ পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত ঠিকানা- ড. সাদেক গ্রন্থাগার Logo স্বাধীনতা দিবসে বুটেক্সে ‘আধিপত্যবাদের একাল থেকে সেকাল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমেছে, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক চিত্র Logo বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে ড. আব্দুল মঈন খান Logo ময়মনসিংহে ভয় ও অপরাধ: চাঁদাবাজি–লুটপাট
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

অপরাধী চক্রের টার্গেটে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: ভয়ভীতির মাঝেও সত্য লেখার লড়াই

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

অপরাধী চক্রের টার্গেটে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: ভয়ভীতির মাঝেও সত্য লেখার লড়াই

ময়মনসিংহে মাদক ও চাঁদাবাজিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় ধারাবাহিক,তথ্যনির্ভর ও সাহসী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তরুণ সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুন। কিন্তু সত্য প্রকাশের এই পথ সহজ ছিল না। বরং মাদক ব্যবসায়ী ও পেশাদার চাঁদাবাজ চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগতেই শুরু হয় ভয়ভীতি,হুমকি,সংঘবদ্ধ অপপ্রচার এবং পরিকল্পিত চরিত্রহননের অপচেষ্টা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনই কাল হলো ‘অপরাধী চক্রের’!
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়,সাংবাদিক মামুনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ চক্র পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে কেউ যেন আর এই চক্রের বিরুদ্ধে কলম ধরতে সাহস না করে। তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে অনুসন্ধানী কাজের অংশ হিসেবে সাংবাদিক মামুন কৌশলগতভাবে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। সেই সূত্র ধরেই তিনি চিহ্নিত করেন একাধিক মাদক ব্যবসায়ী,তাদের অর্থনৈতিক লেনদেন ও নেটওয়ার্ক। তার প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারও করে—যা অপরাধী চক্রের জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়ায়। গোপন ভিডিও, বিকৃত উপস্থাপন ও অপপ্রচার: মামুনুর রশীদ মামুনের অভিযোগ,তাকে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিওগুলো কৌশলে সম্পাদনা ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে তাকে নৈতিকভাবে হেয় করা যায় এবং তার অনুসন্ধানী কাজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ বিষয়ে সাংবাদিক মামুন বলেন—“আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে সমাজের স্বার্থেই কাজ করছি। মাদক ও চাঁদাবাজি—দুটোই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এসবের বিরুদ্ধে কলম ধরেছি বলেই আজ আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু অপপ্রচার কিংবা হুমকিতে আমি থামবো না।”
তিনি আরও বলেন—“সৎ থাকলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভয় দেখিয়ে বা ষড়যন্ত্র করে আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। এই লড়াই ব্যক্তি মামুনের নয়—এটা সমাজের।” সন্ত্রাসে অচল ময়মনসিংহ: এক চাঁদাবাজ চক্রের দাপটে মাদ্রাসা বন্ধ, সরকারি কাজ স্থবির,সংবাদকর্মী ঘরছাড়া
ময়মনসিংহ নগরীতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ওরফে ‘সুন্দরী জাহাঙ্গীর’ এবং তার সহযোগীদের ধারাবাহিক হামলা,হুমকি ও চাঁদাবাজিতে একদিকে বন্ধ হয়ে গেছে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,অন্যদিকে বাধাগ্রস্ত হয়েছে সরকারি উন্নয়ন কাজ। সর্বশেষ সশস্ত্র হামলা ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন একজন সংবাদকর্মী। মাদ্রাসায় অনুপ্রবেশ ও দেড় লাখ টাকা চাঁদা! ২৩ জুন ২০২৫,রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ায় অবস্থিত মদিনাতুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় অনুপ্রবেশ করে জাহাঙ্গীর ও তার ১৫–২০ জন সহযোগী। মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. আলামিনের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণনাশ ও মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিতে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় মাদ্রাসা বন্ধ করে সংশ্লিষ্টরা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। সরকারি সড়ক নির্মাণে বাধা ও মারধর! একই চক্রের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ২টার দিকে আলীয়া মাদ্রাসা থেকে কারিতাস মোড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদা দাবি ও মারধরের শিকার হন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করলেও গুরুতর অপরাধ থাকা সত্ত্বেও তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। পরদিন জামিনে মুক্তি পেয়ে অভিযুক্ত আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। সংবাদকর্মীর ওপর সশস্ত্র হামলা,লুট ও জিম্মি: সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর এলাকায় এক সংবাদকর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালানো হয়। মারধর করে ২টি ইজিবাইক ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়,মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ,সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা এবং মামলা করলে খুন ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৫–৬ জানুয়ারি ও ২০ জানুয়ারি ভোরে বাসা পরিবর্তনের সময় আবারও হামলার শিকার হন ওই সংবাদকর্মী। অভিযোগ রয়েছে,পুলিশকে জানানো হলেও সময়মতো কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি। প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন! একই ব্যক্তি বারবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রকল্প ও সংবাদকর্মীর ওপর হামলা চালালেও কেন তাকে থামানো যাচ্ছে না—এই প্রশ্ন এখন ময়মনসিংহবাসীর মুখে মুখে। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের তদন্ত কোথায়? ভুক্তভোগীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হলে রাষ্ট্রের দায়িত্বই বা কোথায়? অপপ্রচারই শেষ অস্ত্র!
এই সব অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের জেরেই অভিযুক্ত চক্র সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক মহলের মতে,এটি কেবল একজন সাংবাদিককে হেয় করার চেষ্টা নয়—এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিশেষজ্ঞদের মতে,মাদক ও চাঁদাবাজিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে এর বিকল্প নেই। সব হুমকি ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুন জানিয়েছেন—“যতদিন কলম আছে,ততদিন সত্য লেখাই আমার দায়িত্ব।” এই লড়াই কোনো ব্যক্তির নয়—এটি সমাজ,গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের লড়াই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের

অপরাধী চক্রের টার্গেটে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: ভয়ভীতির মাঝেও সত্য লেখার লড়াই

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

অপরাধী চক্রের টার্গেটে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: ভয়ভীতির মাঝেও সত্য লেখার লড়াই

ময়মনসিংহে মাদক ও চাঁদাবাজিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় ধারাবাহিক,তথ্যনির্ভর ও সাহসী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তরুণ সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুন। কিন্তু সত্য প্রকাশের এই পথ সহজ ছিল না। বরং মাদক ব্যবসায়ী ও পেশাদার চাঁদাবাজ চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগতেই শুরু হয় ভয়ভীতি,হুমকি,সংঘবদ্ধ অপপ্রচার এবং পরিকল্পিত চরিত্রহননের অপচেষ্টা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনই কাল হলো ‘অপরাধী চক্রের’!
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়,সাংবাদিক মামুনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ চক্র পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে কেউ যেন আর এই চক্রের বিরুদ্ধে কলম ধরতে সাহস না করে। তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে অনুসন্ধানী কাজের অংশ হিসেবে সাংবাদিক মামুন কৌশলগতভাবে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। সেই সূত্র ধরেই তিনি চিহ্নিত করেন একাধিক মাদক ব্যবসায়ী,তাদের অর্থনৈতিক লেনদেন ও নেটওয়ার্ক। তার প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারও করে—যা অপরাধী চক্রের জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়ায়। গোপন ভিডিও, বিকৃত উপস্থাপন ও অপপ্রচার: মামুনুর রশীদ মামুনের অভিযোগ,তাকে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিওগুলো কৌশলে সম্পাদনা ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে তাকে নৈতিকভাবে হেয় করা যায় এবং তার অনুসন্ধানী কাজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ বিষয়ে সাংবাদিক মামুন বলেন—“আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে সমাজের স্বার্থেই কাজ করছি। মাদক ও চাঁদাবাজি—দুটোই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এসবের বিরুদ্ধে কলম ধরেছি বলেই আজ আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু অপপ্রচার কিংবা হুমকিতে আমি থামবো না।”
তিনি আরও বলেন—“সৎ থাকলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভয় দেখিয়ে বা ষড়যন্ত্র করে আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। এই লড়াই ব্যক্তি মামুনের নয়—এটা সমাজের।” সন্ত্রাসে অচল ময়মনসিংহ: এক চাঁদাবাজ চক্রের দাপটে মাদ্রাসা বন্ধ, সরকারি কাজ স্থবির,সংবাদকর্মী ঘরছাড়া
ময়মনসিংহ নগরীতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ওরফে ‘সুন্দরী জাহাঙ্গীর’ এবং তার সহযোগীদের ধারাবাহিক হামলা,হুমকি ও চাঁদাবাজিতে একদিকে বন্ধ হয়ে গেছে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,অন্যদিকে বাধাগ্রস্ত হয়েছে সরকারি উন্নয়ন কাজ। সর্বশেষ সশস্ত্র হামলা ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন একজন সংবাদকর্মী। মাদ্রাসায় অনুপ্রবেশ ও দেড় লাখ টাকা চাঁদা! ২৩ জুন ২০২৫,রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ায় অবস্থিত মদিনাতুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় অনুপ্রবেশ করে জাহাঙ্গীর ও তার ১৫–২০ জন সহযোগী। মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. আলামিনের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণনাশ ও মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিতে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় মাদ্রাসা বন্ধ করে সংশ্লিষ্টরা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। সরকারি সড়ক নির্মাণে বাধা ও মারধর! একই চক্রের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ২টার দিকে আলীয়া মাদ্রাসা থেকে কারিতাস মোড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদা দাবি ও মারধরের শিকার হন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করলেও গুরুতর অপরাধ থাকা সত্ত্বেও তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। পরদিন জামিনে মুক্তি পেয়ে অভিযুক্ত আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। সংবাদকর্মীর ওপর সশস্ত্র হামলা,লুট ও জিম্মি: সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর এলাকায় এক সংবাদকর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালানো হয়। মারধর করে ২টি ইজিবাইক ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়,মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ,সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা এবং মামলা করলে খুন ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৫–৬ জানুয়ারি ও ২০ জানুয়ারি ভোরে বাসা পরিবর্তনের সময় আবারও হামলার শিকার হন ওই সংবাদকর্মী। অভিযোগ রয়েছে,পুলিশকে জানানো হলেও সময়মতো কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি। প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন! একই ব্যক্তি বারবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রকল্প ও সংবাদকর্মীর ওপর হামলা চালালেও কেন তাকে থামানো যাচ্ছে না—এই প্রশ্ন এখন ময়মনসিংহবাসীর মুখে মুখে। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের তদন্ত কোথায়? ভুক্তভোগীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হলে রাষ্ট্রের দায়িত্বই বা কোথায়? অপপ্রচারই শেষ অস্ত্র!
এই সব অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের জেরেই অভিযুক্ত চক্র সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক মহলের মতে,এটি কেবল একজন সাংবাদিককে হেয় করার চেষ্টা নয়—এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিশেষজ্ঞদের মতে,মাদক ও চাঁদাবাজিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে এর বিকল্প নেই। সব হুমকি ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুন জানিয়েছেন—“যতদিন কলম আছে,ততদিন সত্য লেখাই আমার দায়িত্ব।” এই লড়াই কোনো ব্যক্তির নয়—এটি সমাজ,গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের লড়াই।