ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের Logo নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে বিরুদ্ধে মানববন্ধন Logo এইউবিতে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক উৎসব Logo নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত, এম.এ আউয়াল সভাপতি, ভূইয়া সজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত Logo কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে গোলাপগঞ্জের হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার Logo ৩ লক্ষ পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত ঠিকানা- ড. সাদেক গ্রন্থাগার Logo স্বাধীনতা দিবসে বুটেক্সে ‘আধিপত্যবাদের একাল থেকে সেকাল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমেছে, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক চিত্র Logo বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে ড. আব্দুল মঈন খান Logo ময়মনসিংহে ভয় ও অপরাধ: চাঁদাবাজি–লুটপাট
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

জনআস্থার সংকটে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর: ময়মনসিংহে প্রশ্নের মুখে ‘ক’ সার্কেল

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:৩৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

জনআস্থার সংকটে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর: ময়মনসিংহে প্রশ্নের মুখে ‘ক’ সার্কেল

ময়মনসিংহে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের ‘ক’ সার্কেলে নতুন ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদানের পরই মাদকবিরোধী অভিযানের গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে আসা ইন্সপেক্টর সেন্টু রঞ্জন নাথ–এর দায়িত্ব গ্রহণের পর যেসব মাদক ব্যবসায়ী আগে অভিযান ও গ্রেফতারের আতঙ্কে আত্মগোপনে ছিল,তারাই এখন প্রকাশ্যে ও বেপরোয়াভাবে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে—এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। বিশেষ করে
নগরীর ব্রিজ মোড়ের সুরমার স্পট এলাকা সহ পরিচিত একাধিক মাদক স্পটে আগের তুলনায় মাদক লেনদেন বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য,যেখানে আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও অভিযানের আশঙ্কা থাকত,সেখানে এখন কার্যত কোনো বাধা দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে,মাদক নিয়ন্ত্রণ
অধিদপ্তরের পুরোনো দুই সিপাহী,স্থানীয়ভাবে পরিচিত পাপ্পু ও সাব্বির–কে ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিথ্যা মামলা বা হয়রানির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবিও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। অভিযোগকারীদের মতে,সব স্পটে সরাসরি যেতে না হলেও অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব ওই দুই সিপাহীর মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয় এবং আধুনিক লেনদেন ব্যবস্থার সুযোগে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইন্সপেক্টর সেন্টু রঞ্জন নাথের নেতৃত্বে কয়টি মাদকবিরোধী মামলা হয়েছে,
কতজন গ্রেফতার হয়েছে,কী পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে,এই তথ্য ও নথি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা যাচাই করা সহজ হতো। মাদকবিরোধী অভিযানে দৃশ্যমান সাফল্য না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন—যদি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার দায়িত্বশীল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকে,তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কতটা কার্যকর হবে? অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর ও জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে,ময়মনসিংহের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভূমিকা শুধু অভিযানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা জনআস্থা ও নৈতিক শক্তির প্রশ্ন। অভিযোগ গুলো সত্য না হলে দ্রুত তদন্ত করে পরিষ্কার করা জরুরি,আর সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে মাদকবিরোধী সংগ্রামের প্রথম সফল পদক্ষেপ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের

জনআস্থার সংকটে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর: ময়মনসিংহে প্রশ্নের মুখে ‘ক’ সার্কেল

আপডেট সময় ০৯:৩৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

জনআস্থার সংকটে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর: ময়মনসিংহে প্রশ্নের মুখে ‘ক’ সার্কেল

ময়মনসিংহে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের ‘ক’ সার্কেলে নতুন ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদানের পরই মাদকবিরোধী অভিযানের গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে আসা ইন্সপেক্টর সেন্টু রঞ্জন নাথ–এর দায়িত্ব গ্রহণের পর যেসব মাদক ব্যবসায়ী আগে অভিযান ও গ্রেফতারের আতঙ্কে আত্মগোপনে ছিল,তারাই এখন প্রকাশ্যে ও বেপরোয়াভাবে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে—এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। বিশেষ করে
নগরীর ব্রিজ মোড়ের সুরমার স্পট এলাকা সহ পরিচিত একাধিক মাদক স্পটে আগের তুলনায় মাদক লেনদেন বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য,যেখানে আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও অভিযানের আশঙ্কা থাকত,সেখানে এখন কার্যত কোনো বাধা দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে,মাদক নিয়ন্ত্রণ
অধিদপ্তরের পুরোনো দুই সিপাহী,স্থানীয়ভাবে পরিচিত পাপ্পু ও সাব্বির–কে ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিথ্যা মামলা বা হয়রানির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবিও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। অভিযোগকারীদের মতে,সব স্পটে সরাসরি যেতে না হলেও অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব ওই দুই সিপাহীর মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয় এবং আধুনিক লেনদেন ব্যবস্থার সুযোগে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইন্সপেক্টর সেন্টু রঞ্জন নাথের নেতৃত্বে কয়টি মাদকবিরোধী মামলা হয়েছে,
কতজন গ্রেফতার হয়েছে,কী পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে,এই তথ্য ও নথি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা যাচাই করা সহজ হতো। মাদকবিরোধী অভিযানে দৃশ্যমান সাফল্য না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন—যদি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার দায়িত্বশীল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকে,তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কতটা কার্যকর হবে? অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর ও জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে,ময়মনসিংহের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভূমিকা শুধু অভিযানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা জনআস্থা ও নৈতিক শক্তির প্রশ্ন। অভিযোগ গুলো সত্য না হলে দ্রুত তদন্ত করে পরিষ্কার করা জরুরি,আর সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে মাদকবিরোধী সংগ্রামের প্রথম সফল পদক্ষেপ।