ঢাকা , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের Logo নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে বিরুদ্ধে মানববন্ধন Logo এইউবিতে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক উৎসব Logo নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত, এম.এ আউয়াল সভাপতি, ভূইয়া সজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত Logo কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে গোলাপগঞ্জের হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার Logo ৩ লক্ষ পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত ঠিকানা- ড. সাদেক গ্রন্থাগার Logo স্বাধীনতা দিবসে বুটেক্সে ‘আধিপত্যবাদের একাল থেকে সেকাল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমেছে, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক চিত্র Logo বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে ড. আব্দুল মঈন খান Logo ময়মনসিংহে ভয় ও অপরাধ: চাঁদাবাজি–লুটপাট
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

তদন্তের আগেই পদোন্নতি, আবারও দায়িত্বে বিতর্কিত ডিএডি জলিল!

তদন্তের আগেই পদোন্নতি, আবারও দায়িত্বে বিতর্কিত ডিএডি জলিল!

 

 

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে আবারও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অতীতের আলোচিত ও বিতর্কিত উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আব্দুল জলিল। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, এবং প্রশিক্ষণ শাখার অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিতাড়িত এই কর্মকর্তাকে এবার “রিফর্ম” সেলের উন্নয়নের অজুহাতে পুনরায় ঢাকায় আনা হয়েছে—যেখানে শুরু হয়েছে নতুন করে সিন্ডিকেট গঠনের তোড়জোড়।

কে এই জলিল? সিনিয়র স্টেশন অফিসার হিসেবে সিদ্দিকবাজারে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন আব্দুল জলিল। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, আলী আহমদের সঙ্গে তার এমন সখ্যতা ছিল যে, তার পরামর্শ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তই হতো না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে, নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট ও সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে কোটিপতি হয়ে ওঠেন তিনি। ৫০ কোটির অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ? অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ শাখায় কর্মরত অবস্থায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার খরচের কোনো গ্রহণযোগ্য হিসাব দিতে না পারায় তাকে বগুড়া বদলি করা হয়। কিন্তু সেই অর্থ কোথায় গেল, তা আজও অধিদপ্তরের কোনো নিরপেক্ষ অডিটে উঠে আসেনি। অভিযোগ আছে, আত্মসাৎ করা টাকা ডলার রূপে তার আমেরিকা:প্রবাসী ভাইয়ের কাছে পাচার করা হয়, যা পরবর্তীতে ঘুরপথে দেশে ফেরত আসে। কৌশলে ফিরে আসা ও “নতুন চক্রান্ত” বর্তমানে বগুড়ায় পোস্টিং থাকা সত্ত্বেও তাকে ঢাকায় আনা হয়েছে, যদিও বগুড়া জেলা এখন কার্যত খালি। মাত্র কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় আবারও তিনি তদন্ত কমিটি ও বদলি কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন, যা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অধিদপ্তরের অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,>এই জলিল সাহেবের চক্রান্ত আবারও শুরু হয়েছে। আমরা আতঙ্কে আছি, যেন বিডিআরের ঘটনার মতো কিছু না ঘটে।”

সরঞ্জাম ঘাটতিতে দুর্ভোগে স্টেশনগুলো!

অভিযোগ রয়েছে, সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সাহেবকে বিভ্রান্ত করে জলিল ও তার ঘনিষ্ঠ চক্র ৪২ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছেন, অথচ সেই অর্থে স্টেশন গুলোর জন্য প্রয়োজনীয় গামবুট, হেলমেট, ডেলিভারি হোজ, ব্রাঞ্চ পাইপসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম কেনা সম্ভব হতো। এর ফলে ফায়ার সার্ভিসের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছেন।

“টাকা কামাইছি, আপনার সমস্যা কী?” – জলিল! তাকে ফোন করে এই অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সংক্ষিপ্ত ও চাঞ্চল্যকর উত্তর দেন, >“সুযোগ ছিল, টাকা কামাইছি—আপনার সমস্যা কী?” এই ধরনের বক্তব্য একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে আসা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। প্রশাসনের প্রতি দাবি

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্ধার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার অভ্যন্তরে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পুনর্বহাল—সার্বিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় না আনলে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রতি জনআস্থা আরও কমে যাবে। সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি—অবিলম্বে তদন্তপূর্বক আব্দুল জলিলকে বরখাস্ত করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের

তদন্তের আগেই পদোন্নতি, আবারও দায়িত্বে বিতর্কিত ডিএডি জলিল!

আপডেট সময় ০৩:২১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

তদন্তের আগেই পদোন্নতি, আবারও দায়িত্বে বিতর্কিত ডিএডি জলিল!

 

 

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে আবারও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অতীতের আলোচিত ও বিতর্কিত উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আব্দুল জলিল। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, এবং প্রশিক্ষণ শাখার অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিতাড়িত এই কর্মকর্তাকে এবার “রিফর্ম” সেলের উন্নয়নের অজুহাতে পুনরায় ঢাকায় আনা হয়েছে—যেখানে শুরু হয়েছে নতুন করে সিন্ডিকেট গঠনের তোড়জোড়।

কে এই জলিল? সিনিয়র স্টেশন অফিসার হিসেবে সিদ্দিকবাজারে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন আব্দুল জলিল। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, আলী আহমদের সঙ্গে তার এমন সখ্যতা ছিল যে, তার পরামর্শ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তই হতো না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে, নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট ও সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে কোটিপতি হয়ে ওঠেন তিনি। ৫০ কোটির অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ? অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ শাখায় কর্মরত অবস্থায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার খরচের কোনো গ্রহণযোগ্য হিসাব দিতে না পারায় তাকে বগুড়া বদলি করা হয়। কিন্তু সেই অর্থ কোথায় গেল, তা আজও অধিদপ্তরের কোনো নিরপেক্ষ অডিটে উঠে আসেনি। অভিযোগ আছে, আত্মসাৎ করা টাকা ডলার রূপে তার আমেরিকা:প্রবাসী ভাইয়ের কাছে পাচার করা হয়, যা পরবর্তীতে ঘুরপথে দেশে ফেরত আসে। কৌশলে ফিরে আসা ও “নতুন চক্রান্ত” বর্তমানে বগুড়ায় পোস্টিং থাকা সত্ত্বেও তাকে ঢাকায় আনা হয়েছে, যদিও বগুড়া জেলা এখন কার্যত খালি। মাত্র কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় আবারও তিনি তদন্ত কমিটি ও বদলি কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন, যা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অধিদপ্তরের অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা।

একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,>এই জলিল সাহেবের চক্রান্ত আবারও শুরু হয়েছে। আমরা আতঙ্কে আছি, যেন বিডিআরের ঘটনার মতো কিছু না ঘটে।”

সরঞ্জাম ঘাটতিতে দুর্ভোগে স্টেশনগুলো!

অভিযোগ রয়েছে, সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সাহেবকে বিভ্রান্ত করে জলিল ও তার ঘনিষ্ঠ চক্র ৪২ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছেন, অথচ সেই অর্থে স্টেশন গুলোর জন্য প্রয়োজনীয় গামবুট, হেলমেট, ডেলিভারি হোজ, ব্রাঞ্চ পাইপসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম কেনা সম্ভব হতো। এর ফলে ফায়ার সার্ভিসের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছেন।

“টাকা কামাইছি, আপনার সমস্যা কী?” – জলিল! তাকে ফোন করে এই অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সংক্ষিপ্ত ও চাঞ্চল্যকর উত্তর দেন, >“সুযোগ ছিল, টাকা কামাইছি—আপনার সমস্যা কী?” এই ধরনের বক্তব্য একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে আসা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। প্রশাসনের প্রতি দাবি

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্ধার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার অভ্যন্তরে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পুনর্বহাল—সার্বিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় না আনলে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রতি জনআস্থা আরও কমে যাবে। সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি—অবিলম্বে তদন্তপূর্বক আব্দুল জলিলকে বরখাস্ত করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।