
ধর্ষণ,হামলা,হুমকি—তদন্তের দায়িত্ব অভিযুক্তের হাতে,ন্যায়বিচার প্রশ্নের মুখে
ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অভিযোগের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা, লুটপাট, প্রকাশ্য মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া তো দূরের কথা—উল্টো অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেই পুলিশ কর্মীকেই, যাঁর বিরুদ্ধেই ঘুষ গ্রহণ ও দায়িত্বে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানাধীন ভাটি ঘাগড়া এলাকায় বসবাসকারী শিউলী আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন। অভিযোগপত্রের স্মারক নং–১০৬৭/আর–০৯/১২/২৫ ইং।
ধর্ষণের অভিযোগ ও আদালতে মামলা
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুল ফকির (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ১১ আগস্ট ২০২৫ দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে ধর্ষণ করে এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিউলী আক্তার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ময়মনসিংহে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–২১৬/২০২৫)।
মামলা তুলে নিতে চাপ ও ধারাবাহিক হামলা
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত ও তাঁর সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দিতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর ২০২৫ দুপুরে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে ঢুকে শাশুড়িকে হুমকি দেয়। আপোষে রাজি না হওয়ায় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়।
প্রকাশ্য মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি
এরপর ২৪ অক্টোবর ২০২৫ সকালে ‘দরবার–শালিশ’-এর কথা বলে ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বামীকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতেই অভিযুক্তরা হুমকি দেয়—থানায় গেলে লাশ গুম করে ফেলা হবে। পুলিশি অবহেলার গুরুতর অভিযোগঃ সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ
উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, কোতোয়ালী মডেল থানার বিট কর্মকর্তা এসআই খালিদ ও এএসআই আব্দুল আলী অভিযোগ গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্ত না করে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য জানান। এর ফলে থানায় মামলা রুজু হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিস্ময়করভাবে, ওই এসআই খালিদকেই পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—যা আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। জীবন ঝুঁকিতে ভুক্তভোগী পরিবার
শিউলী আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী হওয়ায় যে কোনো সময় তাঁকে, তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের হত্যা বা গুম করে ফেলতে পারে। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রশাসনের প্রতি
আবেদনঃ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী নিম্নোক্ত দাবি জানিয়েছেন—অবিলম্বে ধর্ষণ,হামলা ও লুটপাটের
ঘটনায় পৃথক মামলা রুজু। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা। ভুক্তভোগী পরিবারটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী! ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—এই প্রশ্ন এখন জনমনে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি তৈরি করেছে। এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের 









