
পুরস্কারে আলোচনায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ,সমালোচনায় অনিয়মকারীদের রেহাই না দেওয়ার আহ্বান
দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা ও আন্তরিকতা অপরিহার্য। সেই বাস্তবতায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সম্মাননা প্রদান করেছে—তা ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা। তবে একই সঙ্গে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। এসআই সোহেল রানা: মাঠ পর্যায়ের সাফল্যে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন। ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং পুলিশ ফাঁড়ির মেধাবী ও কর্মদক্ষ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা নিয়মিত মামলা তদন্ত,মাদক উদ্ধার, পেশাদার চোর–ছিনতাইকারী গ্রেফতার এবং ওয়ারেন্ট তামিলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করায় ২৩ নভেম্বর ২০২৫ জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা জানান—এসআই সোহেলের মতো দক্ষ অফিসারদের মাঠ পর্যায়ের তৃণমূল কাজই পুলিশিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি। ত্রিশাল থানার পরিদর্শক রুবেল: মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষ অবদান। একই অনুষ্ঠানে ত্রিশাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা রুবেল মাদক উদ্ধারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ পুরস্কার অর্জন করেন।মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে তার দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
হালুয়াঘাট সার্কেল সেরা সার্কেল: নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান
ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল হিসেবে হালুয়াঘাট সার্কেল নির্বাচিত হয়েছে। সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান প্রাপ্ত সম্মাননা গ্রহণ করেন। জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে—মানসম্মত টহল ব্যবস্থা, দ্রুত তদন্ত, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং ভিকটিম সাপোর্টের উন্নতি সার্কেলটিকে বিশেষভাবে এগিয়ে রেখেছে। আরও বহু কর্মকর্তা পুরস্কৃত—জেলায় তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যকর পেশাদার প্রতিযোগিতা। জানা গেছে,এই তিনজন ছাড়াও জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সেবা,দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও কর্মতৎপরতার ভিত্তিতে আরও বহু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
অধিকতর দায়িত্বশীল পুলিশিং,জনবান্ধব আচরণ,প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও দ্রুত অভিযানের মতো খাতগুলোকে সামনে রেখে এসব পুরস্কার প্রদান করা হয়। জেলা পুলিশের অন্যতম কর্মকর্তা জানান—নিয়মিত মূল্যায়ন না হলে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি সম্ভব নয়, তাই এই সম্মাননা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বচ্ছতা,আনুষ্ঠানিকতা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে এই উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। জনমতের দাবি—সাফল্যের মতো অনিয়মেও চাই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। যদিও ভালো কাজের সঠিক মূল্যায়ন ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করছে,তবুও সচেতন মহলের অভিমত—কয়েকজন সদস্যের অনিয়ম,দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মাদক বা জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পুলিশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাদের মতে,“সাহসী অফিসারদের পুরস্কৃত করা যেমন জরুরি, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত না হলে পুলিশ-জনতার আস্থার সেতু ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।” ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পুরস্কার ও সম্মাননার উদ্যোগ একদিকে যেমন ভালো কাজকে সামনে আনছে,অন্যদিকে অনিয়মের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানের দাবি সামাজিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই দুই ধারার সমন্বয়ই পুলিশের প্রকৃত জনমুখী ভাবমূর্তি নিশ্চিত করবে—এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের 









