
বাংলাদেশে সাইবার অর্ডিনেন্সে ধারা বাদ, ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার কোন পথে
বাংলাদেশে ডিজিটাল স্পেস নিয়ন্ত্রণ করতে গৃহীত আইসিটি আইন-২০০৬, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন-২০১৮ ও সাইবার সিকিউরিটি আইন-২০২৩ (CSA)-এর ধারাবাহিক প্রভাব এবং অপব্যবহার নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিতর্ক চলছে। এই আইনগুলো যুক্ত হয় মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগগুলোর সঙ্গে।
আইন সংশোধনের ধাপসমূহ ও কি ঘটেছে: ICT Act 2006-এর ধারায় Section ৫৭ অনলাইন প্রকাশনা-তে “অসত্য, অবমাননাকর বা অশ্লীল” প্রচার করলে শাস্তির বিধান ছিল। এই ধারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। ২০১৮ সালে Digital Security Act (DSA) আসে, যা Section ৫৭ সহ পুরনো কিছু ধারাকে রিপ্লেস করেছিল তবে অনেক নতুন ধারা—যেখানে “ভীতি-ভয়” সৃষ্টি, “গণঅশান্তি”, জাতীয় চিহ্ন বা মুক্তিযুদ্ধের মতো বিষয়—বিতর্কিতভাবে নির্ধারণ ছিল। ২০২৩ সালে Cyber Security Act গৃহীত হয়, যেখানে DSA-র অনেক বিধান বহাল ছিল বলে দাবি করা হয়। Amnesty International ও অন্যান্য সংস্থা বলেছে, CSA অনেকটা DSA-র পুনরাবৃত্তি। সাম্প্রতিক সময়ে, বর্তমান সরকার একটি Cyber Security Ordinance / Cyber Safety Ordinance / সংশোধিত আইন প্রণয়ন করেছে, যেখানে CSA-র মধ্যে থেকে বেশ কিছু বিতর্কিত ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং “speech-offence” নামে যে মামলা রয়েছে, সেগুলো বাতিল বা খারিজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কি কি মামলা বাতিল করা হয়েছে: প্রায় ৪১০টি মামলা যা ২০১৯ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে “speech-based offences” ধারায় করা হয়েছিল, বাতিল করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা যারা গ্রেফতার হয়েছিলেন speech-offence মামলায় তাদের রিলিজের নির্দেশ হয়েছে। অপরাধীদের দায়মুক্তি? কোথায় সীমাবদ্ধতা: তারপরও “অপরাধীদের দায়মুক্তি” বলে blanket-কথা বলা যায় না কারণ: অধিকাংশ মামলা যেটি বাতিল হয়েছে তা speech-offence বা মত প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়; অর্থাৎ যা হয়রানি, প্রশাসনিক নিপীড়ন বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা অভিযোগ। কিন্তু কম্পিউটার-আইন অপরাধ, সাইবার প্রতারণা, তথ্য চুরি, অনলাইন হয়রানি বা নারী/শিশুদের প্রতি সাইবার অপরাধ—এসব মামলাগুলি এখনও বিচারাধীন বা নতুন আইন অনুসারে প্রক্রিয়াধীন। বাতিল হওয়া ধারা গুলো অনেক সময় “অভিযুক্ত vs রাষ্ট্র”-এর ক্ষেত্রে অভিযুক্ত-পক্ষের অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে করা, কিন্তু ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কিছু অভিযোগ ও প্রমাণ এখনও আদালতে বিচারাধীন থাকতে পারে। ন্যায়বিচার ও জনগণের প্রশ্ন: speech-offence মামলার দ্রুত বাতিলতা পক্ষে ভালো তবে ভুক্তভোগীরা যারা এই অভিযোগে হয়রানি বা আটকানো-বাদ গ্রস্ত হয়েছেন, তারা কি পুরোদমে রিকভার করতে পারবেন? ক্ষতিপূরণ কি পাওয়া যাবে? সামনে এগুলো নির্ধারণ হবে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আদালতের রায় যত দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে, ততই জনগণের বিশ্বাস বাড়বে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি অনুসারে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকতে হবে, তবে অপরাধ ও অপব্যবহার হলে আইন প্রয়োগ অবশ্যই থাকতে হবে। সিদ্ধান্ত:বাংলাদেশে সাইবার আইন সংস্কার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, বিশেষ করে মত প্রকাশ সংক্রান্ত মামলা গুলোর ক্ষেত্রে। তবে “অপরাধীদের দায়মুক্তি” বললে সব ধরনের অপরাধ ধরা পড়ে না — বিশেষ করে সাইবার প্রতারণা, ডেটা চুরি, অনলাইন হয়রানি—সেগুলো এখনও আইনের আওতায় রয়েছে বা থাকবে।

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের 









