ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের Logo নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে বিরুদ্ধে মানববন্ধন Logo এইউবিতে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক উৎসব Logo নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত, এম.এ আউয়াল সভাপতি, ভূইয়া সজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত Logo কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে গোলাপগঞ্জের হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার Logo ৩ লক্ষ পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত ঠিকানা- ড. সাদেক গ্রন্থাগার Logo স্বাধীনতা দিবসে বুটেক্সে ‘আধিপত্যবাদের একাল থেকে সেকাল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমেছে, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক চিত্র Logo বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে ড. আব্দুল মঈন খান Logo ময়মনসিংহে ভয় ও অপরাধ: চাঁদাবাজি–লুটপাট
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

মানসম্মত শিক্ষা কি শুধু সিলেবাসে সীমাবদ্ধ?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

মানসম্মত শিক্ষা কি শুধু সিলেবাসে সীমাবদ্ধ?

 

হেজবুন নাহার তানিয়া

শিক্ষা হলো মানুষের চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়ার সব থেকে বড় প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষা বা মানসম্মত শিক্ষা শুধু সিলেবাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হতে পারেনা। সিলেবাসে যা থাকে তা শুধু একটা গন্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ কিন্তু মানসম্মত শিক্ষার কোন সীমাবদ্ধতা নেই। মানুষ তার জীবনের সকল কিছু আয়ত্ত করে তার চারপাশের পরিবেশ থেকে। আর বিপরীতে সিলেবাস আমাদের বলে দেয় কী পড়ানো হবে। মানসম্মত শিক্ষা যদি শুধু সিলেবাস কেন্দ্রিক পড়াশোনাকে বোঝানো হয় তাহলে একজন, ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেই তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায় যে মানুষগুলো প্রচলিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে নতুন ধারণার জন্ম দিতে পারে, নৈতিক যে কোন সিদ্ধান্তে অটল থাকে, রাষ্ট্রের উদ্ভূত যে কোন সমস্যা মোকাবেলায় বীরের ন্যায় সামনে এগিয়ে আসে যা শুধু সিলেবাস মুখস্ত করে সম্ভব নয়। মানসম্মত শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ, চরিত্র গঠন, নৈতিকতা এবং দক্ষতা নির্মাণে সহায়তা করে। বিতর্ক, খেলাধুলা, দলগত কাজ ও সামাজিক কার্যক্রম এগুলো শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্তে¡ও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আমাদের সিলেবাসের মধ্যে অন্তভূক্ত থাকেনা।

একজন শিক্ষক ও সিলেবাসের বাইরে ছাত্র-ছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করে থাকেন। একজন শিক্ষক তা শিক্ষার্থীদের কে সিলেবাসের বাইরে চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে শেখান, যা ছাত্র-ছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

একজন মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার জন্য বইয়ের বা সিলেবাসের শিক্ষার বাইরে দেশী ও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। মানুষ তার বন্ধুদের আড্ডা থেকে, পারিবারিক আলোচনা এবং সমাজের বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে।

শিক্ষা যদি শুধু সিলেবাসের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে, তবে সেটা শুধুই মুখস্ত বিদ্যার চর্চা হয়ে ওঠে। অপরদিকে মানসম্মত শিক্ষা আমাদের মাঝে নতুন কৌতুহলের জন্ম দেয়, ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখায়, ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে সাহসের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যোগায়। একজন সুশিক্ষিত মানুষ কেবল নিজের উন্নতিই নয় বরং সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারেও সদা সজাগ থাকে। এবোধটুকু সিলেবাসের পাতা নয় বরং তা গড়ে ওঠে অভিজ্ঞতা, পাঠাভ্যাস, আলোচনা ও বাস্তব জীবনের সংস্পর্শে। মানসম্মত শিক্ষার মূল উপাদান হলো সুগঠিত পাঠ্যক্রম, দক্ষ ও অনুপ্রানিত শিক্ষক, অনুকূল পরিবেশ, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং সামগ্রিক বিকাশ।

মানসম্মত শিক্ষা পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রত্যাশার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য একজন শিক্ষককে যথাযথ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হতে হবে। শিক্ষক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের ব্যাপারে সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষক হতে হবে নৈতিক চরিত্রের অধিকারী, নিরপেক্ষ, অকুতোভয় ও সত্যবাদী।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে আজকাল সিলেবাসের বাইরে অন্যান্য কার্যক্রমের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আমার কর্মস্থল এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ও সিলেবাস ভিত্তিক পড়াশোনার বাইরে একজন যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের নীতি নৈতিকতার উপর জোর দেয়া হয়। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ হলো সুনাগরিক গড়ার এক অনন্য ও আদর্শ প্রতিষ্ঠান।

সিলেবাস পড়াশোনায় প্রয়োজন হলে ও সেটিকে শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। আমাদের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ গড়ে তোলা। সিলেবাসকে যদি আমরা শিক্ষা অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি তবেই মানসম্মত শিক্ষার পথ সত্যিকার অর্থে সুগম হবে।

 

 

লেখক

প্রভাষক

সমাজকর্ম বিভাগ

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের

মানসম্মত শিক্ষা কি শুধু সিলেবাসে সীমাবদ্ধ?

আপডেট সময় ০৪:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মানসম্মত শিক্ষা কি শুধু সিলেবাসে সীমাবদ্ধ?

 

হেজবুন নাহার তানিয়া

শিক্ষা হলো মানুষের চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়ার সব থেকে বড় প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষা বা মানসম্মত শিক্ষা শুধু সিলেবাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হতে পারেনা। সিলেবাসে যা থাকে তা শুধু একটা গন্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ কিন্তু মানসম্মত শিক্ষার কোন সীমাবদ্ধতা নেই। মানুষ তার জীবনের সকল কিছু আয়ত্ত করে তার চারপাশের পরিবেশ থেকে। আর বিপরীতে সিলেবাস আমাদের বলে দেয় কী পড়ানো হবে। মানসম্মত শিক্ষা যদি শুধু সিলেবাস কেন্দ্রিক পড়াশোনাকে বোঝানো হয় তাহলে একজন, ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেই তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায় যে মানুষগুলো প্রচলিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে নতুন ধারণার জন্ম দিতে পারে, নৈতিক যে কোন সিদ্ধান্তে অটল থাকে, রাষ্ট্রের উদ্ভূত যে কোন সমস্যা মোকাবেলায় বীরের ন্যায় সামনে এগিয়ে আসে যা শুধু সিলেবাস মুখস্ত করে সম্ভব নয়। মানসম্মত শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ, চরিত্র গঠন, নৈতিকতা এবং দক্ষতা নির্মাণে সহায়তা করে। বিতর্ক, খেলাধুলা, দলগত কাজ ও সামাজিক কার্যক্রম এগুলো শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্তে¡ও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আমাদের সিলেবাসের মধ্যে অন্তভূক্ত থাকেনা।

একজন শিক্ষক ও সিলেবাসের বাইরে ছাত্র-ছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করে থাকেন। একজন শিক্ষক তা শিক্ষার্থীদের কে সিলেবাসের বাইরে চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে শেখান, যা ছাত্র-ছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

একজন মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার জন্য বইয়ের বা সিলেবাসের শিক্ষার বাইরে দেশী ও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। মানুষ তার বন্ধুদের আড্ডা থেকে, পারিবারিক আলোচনা এবং সমাজের বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে।

শিক্ষা যদি শুধু সিলেবাসের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে, তবে সেটা শুধুই মুখস্ত বিদ্যার চর্চা হয়ে ওঠে। অপরদিকে মানসম্মত শিক্ষা আমাদের মাঝে নতুন কৌতুহলের জন্ম দেয়, ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখায়, ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে সাহসের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যোগায়। একজন সুশিক্ষিত মানুষ কেবল নিজের উন্নতিই নয় বরং সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারেও সদা সজাগ থাকে। এবোধটুকু সিলেবাসের পাতা নয় বরং তা গড়ে ওঠে অভিজ্ঞতা, পাঠাভ্যাস, আলোচনা ও বাস্তব জীবনের সংস্পর্শে। মানসম্মত শিক্ষার মূল উপাদান হলো সুগঠিত পাঠ্যক্রম, দক্ষ ও অনুপ্রানিত শিক্ষক, অনুকূল পরিবেশ, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং সামগ্রিক বিকাশ।

মানসম্মত শিক্ষা পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রত্যাশার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য একজন শিক্ষককে যথাযথ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হতে হবে। শিক্ষক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের ব্যাপারে সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষক হতে হবে নৈতিক চরিত্রের অধিকারী, নিরপেক্ষ, অকুতোভয় ও সত্যবাদী।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে আজকাল সিলেবাসের বাইরে অন্যান্য কার্যক্রমের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আমার কর্মস্থল এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ও সিলেবাস ভিত্তিক পড়াশোনার বাইরে একজন যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের নীতি নৈতিকতার উপর জোর দেয়া হয়। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ হলো সুনাগরিক গড়ার এক অনন্য ও আদর্শ প্রতিষ্ঠান।

সিলেবাস পড়াশোনায় প্রয়োজন হলে ও সেটিকে শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। আমাদের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ গড়ে তোলা। সিলেবাসকে যদি আমরা শিক্ষা অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি তবেই মানসম্মত শিক্ষার পথ সত্যিকার অর্থে সুগম হবে।

 

 

লেখক

প্রভাষক

সমাজকর্ম বিভাগ

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ