
যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা—উদ্ধার ২০২০,থানায় জমা মাত্র ৪৯০
রাজধানীতে মাদক ব্যবসা যেন প্রকাশ্যেই চলছে। তার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা বহুদিন ধরে ইয়াবা বাণিজ্যের অন্যতম ‘হটস্পট’ হিসেবে কুখ্যাত। এখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চিহ্নিত ইয়াবা ডিলার মাসুম সম্প্রতি ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান। স্থানীয় সূত্র মতে, রাজনৈতিক ছায়া ও অর্থের প্রভাবে তিনি বারবার আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে আসছেন। মাসুম নিজেই প্রকাশ্যে বলেন, “যার টাকা আছে, তার সব আছে। টাকা দিয়ে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, এমনকি প্রশাসনকেও কেনা সহজ।” তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তাকে আশ্রয় দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদল ওরফে ‘টুন্ডা বাদল’। ৮ আগস্ট রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা মাসুমের এক সহযোগীকে ধরে ২,০২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। কিন্তু খবর পেয়ে বাদল ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়াবা ও আটক ব্যক্তিকে নিয়ে চলে যান। সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাদল প্রথমে স্বীকার করেন, তার কাছে “প্রায় ১,০০০ পিস ইয়াবা” আছে। পরদিন ৯ আগস্ট দুপুরে তিনি থানায় গিয়ে মাত্র ৪৯০ পিস ইয়াবা জমা দেন। বিতর্কের সূচনা এখানেই— উদ্ধার হলো ২,০২০ পিস, জমা পড়ল মাত্র ৪৯০ পিস। তাহলে বাকি ১,৫৩০ পিস ইয়াবা কোথায় গেল? ওয়ারি বিভাগের ডিসি স্পষ্ট জানান,কোনো রাজনৈতিক নেতা তার নিজ জিম্মায় মাদক রাখতে পারেন না।” অভিযোগ অনুযায়ী, বাদল বাকি ইয়াবা সরিয়ে দিয়ে মূল মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেন এবং বিনিময়ে নেন ৩ লাখ টাকা। সূত্র আরও জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার মালিক ছিলেন ১০ নং আউটফল ইউনিটের বিএনপি নেতা সপন। পরিবহনকারী ছিলেন আবুল হোসেন ও মিজান, আর রিসিভার ছিলেন রাসেল। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—১.বাকি ইয়াবার হিসাব কে দেবে? ২.আটক মাদক ব্যবসায়ী কেন ছাড়া পেল ৩.রাজনৈতিক গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদল সাংবাদিকদের যাত্রাবাড়ী থানার ওসির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওসি জানান, “এখনও গুনে দেখিনি, তবে ৫ প্যাকেট ইয়াবা পেয়েছি। এই বক্তব্য আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কেন পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া পিস গুনে নিশ্চিত হয়নি! মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মধ্যেও যাত্রাবাড়ীতে এভাবে রাজনৈতিক ছায়ায় ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রাজধানীতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের 









