ঢাকা , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের Logo নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে বিরুদ্ধে মানববন্ধন Logo এইউবিতে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক উৎসব Logo নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত, এম.এ আউয়াল সভাপতি, ভূইয়া সজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত Logo কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে গোলাপগঞ্জের হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার Logo ৩ লক্ষ পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত ঠিকানা- ড. সাদেক গ্রন্থাগার Logo স্বাধীনতা দিবসে বুটেক্সে ‘আধিপত্যবাদের একাল থেকে সেকাল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমেছে, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক চিত্র Logo বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে ড. আব্দুল মঈন খান Logo ময়মনসিংহে ভয় ও অপরাধ: চাঁদাবাজি–লুটপাট
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

রাজনীতি আর পুলিশি আশ্রয়ে বেপরোয়া ছাত্র হত্যার আসামি সজীব

  • স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় ০২:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি আর পুলিশি আশ্রয়ে বেপরোয়া ছাত্র হত্যার আসামি সজীব

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার রামপুরা ও ভাটারা থানায় ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলাম সজীব (৫৪)। একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও জেল খেটে আসা এই আসামি শত অপরাধের পরও আজও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অপরাধের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন রাজধানীর বুকে। প্রশ্ন উঠছে—তার এ বেপরোয়া শক্তির উৎস কোথায়? রামপুরা থানার মামলা নং ৩৪৮/২০২৫-এ তিনি ৭ নং আসামি এবং ভাটারা থানার মামলা নং ১৩৯/২০২৫-এ ৬৯ নং আসামি। দুই থানায় ছাত্র হত্যার মামলায় নাম আসামির তালিকায় থাকার পরও সজীবের দৌরাত্ম্য থামেনি। বিগত সরকারের সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে দখলদারি ও ভুয়া মামলা বানানোর মতো অসংখ্য অপরাধের ‘স্বর্গরাজ্য’ গড়ে তোলেন। হামলা-লুটপাটের ঘটনাঃ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাজধানীর কর্নফুলী গার্ডেন সিটি অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালান সজীব। বাসায় না থাকায় মালিকের সন্তান ও কাজের ছেলেকে মারধর করা হয়, লুট করে নেওয়া হয় স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, ট্যাব ও অন্যান্য মালামাল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার বাহিনীকে স্পষ্ট দেখা গেলেও ঘটনাস্থলে ভাঙচুর চালিয়ে প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। সেনাবাহিনী এসে তাৎক্ষণিকভাবে ৭ জন সন্ত্রাসীকে আটক করলেও মূল পরিকল্পনাকারী সজীব থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরবর্তীতে রমনা থানায় মামলা (নং-২, ১৮/০৮/২০২৪) দায়ের হলেও তার দাপট কমেনি। দীর্ঘ অপরাধের তালিকা:২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় এক নারী আইনজীবীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে মামলা (নং ২৩) হয়। ২০২৩ সালে হাতিরঝিলে তৌহিদুল ইসলামকে কোটি টাকার প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন; মামলা (সি আর ৭২৭/২০২৩) থেকে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটে আসেন। একই বছরে রামপুরায় বেলায়েত হোসেন অনিকের কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন; মামলা (সি আর ৩৯০/২০২৩)। মৌলভীবাজার সদর থানায় আইসিটি আইনে ২০২৪ সালে গ্রেফতার হন। ২০২৩ সালের আগস্টে হাতিরঝিলে মাদকসহ গ্রেফতার হন; মামলা নং ডিএমপি এফআইআর ৩৩/২০২৩। আতঙ্কের রাজত্বঃ কাকরাইলের কর্নফুলী গার্ডেন সিটিতে নিয়মিত লাঠি হাতে ঘুরে বেড়ানো সজীবের ভয়ে আতঙ্কিত সাধারণ ফ্ল্যাটবাসী। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা তাকে সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। মাসিক মোটা অঙ্কের টাকা পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে থানা-পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
অ্যাপার্টমেন্টের এক নারী বাসিন্দা বলেন, “সজীব আমাকে টেলিফোনে হুমকি দিয়েছে—বাসায় ঢুকে সবাইকে মেরে ফ্ল্যাটে আগুন ধরিয়ে দেবে।” অপর এক মালিক জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও সমিতির অফিস থেকে ম্যানেজার সামসুদ্দিনকে তালাবদ্ধ করে বের করে দেন সজীব। প্রশ্ন রয়ে যায়ঃশত অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি যদি অবাধে অপরাধের সাম্রাজ্য চালাতে পারেন, সাধারণ মানুষকে ভুয়া মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করতে পারেন—তাহলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কোথায়? সাইফুল ইসলাম সজীবের খুটির জোর যদি সত্যিই পুলিশ ও রাজনীতির শেল্টারে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের

রাজনীতি আর পুলিশি আশ্রয়ে বেপরোয়া ছাত্র হত্যার আসামি সজীব

আপডেট সময় ০২:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজনীতি আর পুলিশি আশ্রয়ে বেপরোয়া ছাত্র হত্যার আসামি সজীব

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার রামপুরা ও ভাটারা থানায় ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলাম সজীব (৫৪)। একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও জেল খেটে আসা এই আসামি শত অপরাধের পরও আজও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অপরাধের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন রাজধানীর বুকে। প্রশ্ন উঠছে—তার এ বেপরোয়া শক্তির উৎস কোথায়? রামপুরা থানার মামলা নং ৩৪৮/২০২৫-এ তিনি ৭ নং আসামি এবং ভাটারা থানার মামলা নং ১৩৯/২০২৫-এ ৬৯ নং আসামি। দুই থানায় ছাত্র হত্যার মামলায় নাম আসামির তালিকায় থাকার পরও সজীবের দৌরাত্ম্য থামেনি। বিগত সরকারের সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে দখলদারি ও ভুয়া মামলা বানানোর মতো অসংখ্য অপরাধের ‘স্বর্গরাজ্য’ গড়ে তোলেন। হামলা-লুটপাটের ঘটনাঃ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাজধানীর কর্নফুলী গার্ডেন সিটি অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালান সজীব। বাসায় না থাকায় মালিকের সন্তান ও কাজের ছেলেকে মারধর করা হয়, লুট করে নেওয়া হয় স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, ট্যাব ও অন্যান্য মালামাল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার বাহিনীকে স্পষ্ট দেখা গেলেও ঘটনাস্থলে ভাঙচুর চালিয়ে প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। সেনাবাহিনী এসে তাৎক্ষণিকভাবে ৭ জন সন্ত্রাসীকে আটক করলেও মূল পরিকল্পনাকারী সজীব থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরবর্তীতে রমনা থানায় মামলা (নং-২, ১৮/০৮/২০২৪) দায়ের হলেও তার দাপট কমেনি। দীর্ঘ অপরাধের তালিকা:২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় এক নারী আইনজীবীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে মামলা (নং ২৩) হয়। ২০২৩ সালে হাতিরঝিলে তৌহিদুল ইসলামকে কোটি টাকার প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন; মামলা (সি আর ৭২৭/২০২৩) থেকে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটে আসেন। একই বছরে রামপুরায় বেলায়েত হোসেন অনিকের কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন; মামলা (সি আর ৩৯০/২০২৩)। মৌলভীবাজার সদর থানায় আইসিটি আইনে ২০২৪ সালে গ্রেফতার হন। ২০২৩ সালের আগস্টে হাতিরঝিলে মাদকসহ গ্রেফতার হন; মামলা নং ডিএমপি এফআইআর ৩৩/২০২৩। আতঙ্কের রাজত্বঃ কাকরাইলের কর্নফুলী গার্ডেন সিটিতে নিয়মিত লাঠি হাতে ঘুরে বেড়ানো সজীবের ভয়ে আতঙ্কিত সাধারণ ফ্ল্যাটবাসী। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা তাকে সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। মাসিক মোটা অঙ্কের টাকা পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে থানা-পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
অ্যাপার্টমেন্টের এক নারী বাসিন্দা বলেন, “সজীব আমাকে টেলিফোনে হুমকি দিয়েছে—বাসায় ঢুকে সবাইকে মেরে ফ্ল্যাটে আগুন ধরিয়ে দেবে।” অপর এক মালিক জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও সমিতির অফিস থেকে ম্যানেজার সামসুদ্দিনকে তালাবদ্ধ করে বের করে দেন সজীব। প্রশ্ন রয়ে যায়ঃশত অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি যদি অবাধে অপরাধের সাম্রাজ্য চালাতে পারেন, সাধারণ মানুষকে ভুয়া মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করতে পারেন—তাহলে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কোথায়? সাইফুল ইসলাম সজীবের খুটির জোর যদি সত্যিই পুলিশ ও রাজনীতির শেল্টারে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?