
সংবাদকর্মীর অভিযোগে চাঁদাবাজি–লুটের তদন্তে এসআই সোহেল রানা
ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আলীয়া মাদ্রাসা এলাকার রেললাইনসংলগ্ন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি,লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী মোঃ মামুনুর রশীদ মামুন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদকচক্র বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও প্রভাবশালী ছত্রছায়ায় তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মামুন স্থানীয় গণ্যমান্যদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে ওই চক্রের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে খুন-গুমের হুমকি দেওয়া হয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত মোঃ জাহাঙ্গীর ওরফে সুন্দরী জাহাঙ্গীরসহ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় তাকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ, মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয়। হামলায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হন। অভিযুক্তরা তার গ্যারেজে থাকা দুটি ইজি বাইক ও নগদ ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, মোবাইলে ভিডিও ধারণ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়। হামলার সময় ও পরবর্তীতে মামলা না করার জন্য প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদকসেবী হওয়ায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি। তদন্তে দায়িত্ব পেলেন এসআই সোহেল রানাঃ এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ গ্রহণের পর ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা–কে প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। মাঠপর্যায়ে পেশাদারিত্ব,নিয়মিত মামলা তদন্ত,মাদক উদ্ধার,ওয়ারেন্ট তামিল ও অপরাধী গ্রেফতারে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে এসআই সোহেল রানা ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। তার ওপর তদন্তের দায়িত্ব পড়ায় স্থানীয় সচেতন মহল আশাবাদী যে, আলোচিত এই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত সুরাহা হবে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুন বলেন,
“আমি একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এখন আমার নিজের নিরাপত্তাই হুমকির মুখে। আইন ও ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা রেখেই থানায় এসেছি।” প্রশাসনের দৃষ্টি কামনাঃ এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই ঘটনার মাধ্যমে এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দৃঢ় বার্তা দিতে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের 









