ঢাকা , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের Logo নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে বিরুদ্ধে মানববন্ধন Logo এইউবিতে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক উৎসব Logo নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত, এম.এ আউয়াল সভাপতি, ভূইয়া সজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত Logo কুশিয়ারা নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে গোলাপগঞ্জের হযরত সদাইশাহ (রহঃ) এর মাজার Logo ৩ লক্ষ পাঠকের স্মৃতিবিজড়িত ঠিকানা- ড. সাদেক গ্রন্থাগার Logo স্বাধীনতা দিবসে বুটেক্সে ‘আধিপত্যবাদের একাল থেকে সেকাল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমেছে, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক চিত্র Logo বিএনপি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে ড. আব্দুল মঈন খান Logo ময়মনসিংহে ভয় ও অপরাধ: চাঁদাবাজি–লুটপাট
নোটিশ :
নরসিংদী ইনডিপেনডেন্ট কলেজে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলছে আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বিজ্ঞান ৪.০০ ,ব্যবসায় শিক্ষা ৩.০০ ,মানবিক ৩.০০।

যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা—উদ্ধার ২০২০,থানায় জমা মাত্র ৪৯০

  • এমবি টিভি ডেক্স
  • আপডেট সময় ০৩:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা—উদ্ধার ২০২০,থানায় জমা মাত্র ৪৯০

 

রাজধানীতে মাদক ব্যবসা যেন প্রকাশ্যেই চলছে। তার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা বহুদিন ধরে ইয়াবা বাণিজ্যের অন্যতম ‘হটস্পট’ হিসেবে কুখ্যাত। এখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চিহ্নিত ইয়াবা ডিলার মাসুম সম্প্রতি ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান। স্থানীয় সূত্র মতে, রাজনৈতিক ছায়া ও অর্থের প্রভাবে তিনি বারবার আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে আসছেন। মাসুম নিজেই প্রকাশ্যে বলেন, “যার টাকা আছে, তার সব আছে। টাকা দিয়ে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, এমনকি প্রশাসনকেও কেনা সহজ।” তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তাকে আশ্রয় দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদল ওরফে ‘টুন্ডা বাদল’। ৮ আগস্ট রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা মাসুমের এক সহযোগীকে ধরে ২,০২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। কিন্তু খবর পেয়ে বাদল ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়াবা ও আটক ব্যক্তিকে নিয়ে চলে যান। সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাদল প্রথমে স্বীকার করেন, তার কাছে “প্রায় ১,০০০ পিস ইয়াবা” আছে। পরদিন ৯ আগস্ট দুপুরে তিনি থানায় গিয়ে মাত্র ৪৯০ পিস ইয়াবা জমা দেন। বিতর্কের সূচনা এখানেই— উদ্ধার হলো ২,০২০ পিস, জমা পড়ল মাত্র ৪৯০ পিস। তাহলে বাকি ১,৫৩০ পিস ইয়াবা কোথায় গেল? ওয়ারি বিভাগের ডিসি স্পষ্ট জানান,কোনো রাজনৈতিক নেতা তার নিজ জিম্মায় মাদক রাখতে পারেন না।” অভিযোগ অনুযায়ী, বাদল বাকি ইয়াবা সরিয়ে দিয়ে মূল মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেন এবং বিনিময়ে নেন ৩ লাখ টাকা। সূত্র আরও জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার মালিক ছিলেন ১০ নং আউটফল ইউনিটের বিএনপি নেতা সপন। পরিবহনকারী ছিলেন আবুল হোসেন ও মিজান, আর রিসিভার ছিলেন রাসেল। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—১.বাকি ইয়াবার হিসাব কে দেবে? ২.আটক মাদক ব্যবসায়ী কেন ছাড়া পেল ৩.রাজনৈতিক গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদল সাংবাদিকদের যাত্রাবাড়ী থানার ওসির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওসি জানান, “এখনও গুনে দেখিনি, তবে ৫ প্যাকেট ইয়াবা পেয়েছি। এই বক্তব্য আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কেন পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া পিস গুনে নিশ্চিত হয়নি! মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মধ্যেও যাত্রাবাড়ীতে এভাবে রাজনৈতিক ছায়ায় ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রাজধানীতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসুস্থ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদলকে দেখতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের

যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা—উদ্ধার ২০২০,থানায় জমা মাত্র ৪৯০

আপডেট সময় ০৩:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা—উদ্ধার ২০২০,থানায় জমা মাত্র ৪৯০

 

রাজধানীতে মাদক ব্যবসা যেন প্রকাশ্যেই চলছে। তার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা বহুদিন ধরে ইয়াবা বাণিজ্যের অন্যতম ‘হটস্পট’ হিসেবে কুখ্যাত। এখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চিহ্নিত ইয়াবা ডিলার মাসুম সম্প্রতি ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান। স্থানীয় সূত্র মতে, রাজনৈতিক ছায়া ও অর্থের প্রভাবে তিনি বারবার আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে আসছেন। মাসুম নিজেই প্রকাশ্যে বলেন, “যার টাকা আছে, তার সব আছে। টাকা দিয়ে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, এমনকি প্রশাসনকেও কেনা সহজ।” তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তাকে আশ্রয় দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদল ওরফে ‘টুন্ডা বাদল’। ৮ আগস্ট রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা মাসুমের এক সহযোগীকে ধরে ২,০২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। কিন্তু খবর পেয়ে বাদল ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়াবা ও আটক ব্যক্তিকে নিয়ে চলে যান। সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাদল প্রথমে স্বীকার করেন, তার কাছে “প্রায় ১,০০০ পিস ইয়াবা” আছে। পরদিন ৯ আগস্ট দুপুরে তিনি থানায় গিয়ে মাত্র ৪৯০ পিস ইয়াবা জমা দেন। বিতর্কের সূচনা এখানেই— উদ্ধার হলো ২,০২০ পিস, জমা পড়ল মাত্র ৪৯০ পিস। তাহলে বাকি ১,৫৩০ পিস ইয়াবা কোথায় গেল? ওয়ারি বিভাগের ডিসি স্পষ্ট জানান,কোনো রাজনৈতিক নেতা তার নিজ জিম্মায় মাদক রাখতে পারেন না।” অভিযোগ অনুযায়ী, বাদল বাকি ইয়াবা সরিয়ে দিয়ে মূল মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেন এবং বিনিময়ে নেন ৩ লাখ টাকা। সূত্র আরও জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার মালিক ছিলেন ১০ নং আউটফল ইউনিটের বিএনপি নেতা সপন। পরিবহনকারী ছিলেন আবুল হোসেন ও মিজান, আর রিসিভার ছিলেন রাসেল। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—১.বাকি ইয়াবার হিসাব কে দেবে? ২.আটক মাদক ব্যবসায়ী কেন ছাড়া পেল ৩.রাজনৈতিক গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদল সাংবাদিকদের যাত্রাবাড়ী থানার ওসির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওসি জানান, “এখনও গুনে দেখিনি, তবে ৫ প্যাকেট ইয়াবা পেয়েছি। এই বক্তব্য আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কেন পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া পিস গুনে নিশ্চিত হয়নি! মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মধ্যেও যাত্রাবাড়ীতে এভাবে রাজনৈতিক ছায়ায় ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রাজধানীতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।